প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতামূলক জাতীয় মঞ্চে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের দল ‘নেক্সট জেন’। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) আয়োজিত ‘ডুয়েট সিএসই কার্নিভাল ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে দলটি।
সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিযোগিতায় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘নেক্সট জেন’ দলের এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক বড় গৌরব হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষাজীবনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে থেকেও জাতীয় পর্যায়ের এমন প্রতিযোগিতায় নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়ে তারা ভবিষ্যতের সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
‘নেক্সট জেন’ দলের সদস্যরা হলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৬৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সানদিদ হক চৌধুরী এবং আমানুর রহমান আমান। তারা প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত অবস্থায় দেশের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এই সাফল্য অর্জন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডুয়েট সিএসই কার্নিভালে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান, আধুনিক প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ এবং উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়েছে। প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা, দলগত সমন্বয় এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান যাচাই করা হয়।
‘নেক্সট জেন’ দলের সদস্যরা তাদের প্রস্তুতি, অধ্যবসায় ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করেন। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হয়েও জাতীয় পর্যায়ে পঞ্চম স্থান অর্জন তাদের মেধা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রযুক্তি শিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডুয়েট সিএসই কার্নিভালের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ তৈরি করে দেয়। এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভের পাশাপাশি নিজেদের চিন্তাশক্তি, গবেষণার মানসিকতা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা আরও বিকশিত করার সুযোগ পান।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর এমও রহমান চৌধুরী ‘নেক্সট জেন’ দলের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। ডুয়েট সিএসই কার্নিভালের মতো প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের মেধা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, ‘নেক্সট জেন’ দলের সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ পেলে বাংলাদেশের তরুণরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিতে পারে। তিনি দলের সদস্যদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।
এই অর্জনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইমেরিটাস ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী। তিনি শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জিওগ্রাফি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির (মুগাস) নেতৃবৃন্দও ‘নেক্সট জেন’ দলের সাফল্যের প্রশংসা করেছেন। সংগঠনের সভাপতি আহমেদ ইসতিয়াকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক প্রীতম পাল এবং কোষাধ্যক্ষ ইসরার নাজাহ চৌধুরী দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানান।
মুগাসের সভাপতি আহমেদ ইসতিয়াকুর রহমান বলেন, ডুয়েট সিএসই কার্নিভাল ২০২৬-এ ‘নেক্সট জেন’ দলের অংশগ্রহণ ও সাফল্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, গবেষণার মনোভাব এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৬৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তারা আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও বৃদ্ধি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মুগাসের কোষাধ্যক্ষ ইসরার নাজাহ চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের জন্য এ ধরনের প্রতিযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ‘নেক্সট জেন’ দলের সদস্যদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দলগত সমন্বয় প্রশংসার দাবিদার। একই সঙ্গে তিনি কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সব অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীকেও অভিনন্দন জানান।
শিক্ষার্থীদের এই অর্জন শুধু একটি প্রতিযোগিতায় অবস্থান অর্জনের বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের সক্ষমতার প্রতিফলন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ডেটা বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের সেই পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি জগতের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করে।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়া হবে। ‘নেক্সট জেন’ দলও আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে নিজেদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা তুলে ধরবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সিলেটের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য প্রমাণ করে, সুযোগ ও সঠিক পরিচর্যা পেলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরাই প্রযুক্তির বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে।


