সিলেটে হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ৭৬

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন

সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে বিভাগজুড়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে। একই সময়ে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে দুইজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে আরও ৬৯ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন এই পরিসংখ্যান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক এবং অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের একজন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব সুলতানপুর এলাকার সজল মিয়ার সাত মাস বয়সী ছেলে সারহান এবং অন্যজন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উজ্জল মিয়ার পাঁচ মাস বয়সী ছেলে আহিয়ান। দুই পরিবারের জন্য এই মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির নাজুক চিত্রকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৬১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৩২৭ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সিলেট জেলায় ১০৭ জন, সুনামগঞ্জে ১৭৮ জন, হবিগঞ্জে ২৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন রয়েছেন। হবিগঞ্জে শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে দুইজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের শরীরে রুবেলাও শনাক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সুনামগঞ্জ জেলায়। সেখানে সন্দেহজনক হাম ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট ৩১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেট জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা ২৯, যার মধ্যে ২৭ জন সন্দেহজনক হাম এবং দুইজন পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগী। মৌলভীবাজারে মোট ১০ জন এবং হবিগঞ্জে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগ প্রকাশ করেছে। বিভাগীয় প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে সন্দেহজনক হামের উপসর্গে ৭২ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু টিকাদানের ঘাটতি, রোগ শনাক্তে বিলম্ব, অপুষ্টি এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল থাকলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে হাম নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং শ্বাসতন্ত্রের জটিলতার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, হামের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পরে শরীরে লালচে দানা বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে কিছু সময় আলাদা রাখলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা হলো জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সময়ে শিশুদের হাম ও রুবেলা টিকা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি যেসব এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেখানে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা জোরদার করা জরুরি। তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের টিকা গ্রহণে কোনো ধরনের অবহেলা না করতে এবং জ্বর বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে নতুন সংক্রমণ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের একক প্রচেষ্টায় মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধি, শতভাগ টিকাদান নিশ্চিতকরণ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তবে পরিস্থিতির উন্নতির জন্য টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার বিকল্প নেই বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

মাধবপুরে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে সাজানো গাছ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জুড়ীতে স্ত্রী হত্যার পর থানায় গিয়ে স্বামীর আত্মসমর্পণ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

তথ্য অধিকার আইন চর্চায় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির নতুন উদ্যোগ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রেমের ফাঁদে ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিশ্বকাপের আগেই ইতিহাস লিখলেন লিওনেল মেসি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

মাধবপুরে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে সাজানো গাছ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিশ্বকাপের আগেই ইতিহাস লিখলেন লিওনেল মেসি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হামের আতঙ্কে সিলেটে নতুন শঙ্কা ডেঙ্গুর থাবা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন কয়েস লোদী

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় রঙিন সিলেটের আকাশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ