প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিলাম পদ্মলোচন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব হাজী তাজরুল ইসলাম তাজুল। শিক্ষা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের বিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বোর্ডের চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু মুসা মো. তারেক স্বাক্ষরিত নির্দেশনার মাধ্যমে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নতুন এডহক কমিটিতে সভাপতি হিসেবে হাজী তাজরুল ইসলাম তাজুল ছাড়াও শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে মো. হাবিজ মিয়া, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে মো. আবুল হোসেন বখত এবং সদস্য সচিব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলাম পদ্মলোচন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় দক্ষিণ সুরমা এলাকার একটি পরিচিত ও দীর্ঘদিনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই বিদ্যালয়টি এলাকায় শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বহু বছর ধরে এখানে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় ভালো ফলাফলও অর্জন করছে।
নতুন এডহক কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
নবনিযুক্ত সভাপতি হাজী তাজরুল ইসলাম তাজুল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যালয় পরিচালনায় অভিজ্ঞ ও সামাজিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হলে অনেক সময় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় গতি আসে। বিশেষ করে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তি যদি শিক্ষা উন্নয়নে আন্তরিক হন, তাহলে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ আরও উন্নত হতে পারে।
অভিভাবকদের একাংশ মনে করছেন, বিদ্যালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষক সংকট নিরসন, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনায় স্থিতিশীলতা আসবে।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, লাইব্রেরি সমৃদ্ধকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হলে তারা আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারবে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, এডহক কমিটির মূল দায়িত্ব হলো বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি গঠন করা। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা, পরীক্ষার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমে তদারকি করা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হবে।
স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারা মনে করছেন, সঠিক সমন্বয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে এডহক কমিটি বিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তবে তারা এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার মান উন্নয়ন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব নয়।
সিলাম পদ্মলোচন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন স্থানীয় কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই বিদ্যালয় থেকে বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছে। তাই বিদ্যালয়ের পরিচালনায় যে কোনো পরিবর্তনই স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করে।
এদিকে নতুন সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় এলাকায় কিছুটা আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিজ্ঞ নেতৃত্বের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের কিছু প্রশাসনিক সমস্যা সমাধান হতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ চাইছেন, শিক্ষা কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিরপেক্ষভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হোক।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এডহক কমিটি সাধারণত স্বল্পমেয়াদি হলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে। কারণ এই সময়েই ভবিষ্যৎ পরিচালনা কাঠামোর ভিত্তি তৈরি হয়। তাই এই কমিটির কার্যক্রম যতটা স্বচ্ছ ও পরিকল্পিত হবে, ততটাই বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করা সহজ হবে।
সব মিলিয়ে সিলাম পদ্মলোচন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন সবার নজর থাকবে এই কমিটি কীভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে তার ওপর।


