প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। কলেজটির নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক মহল, শিক্ষার্থী এবং স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পারসোনেল-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে তাকে আগামী ১৮ মের মধ্যে নতুন দায়িত্বে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিলেটের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তম এই সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল শুধু সিলেট বিভাগ নয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল। প্রতিদিন হাজারো রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। পাশাপাশি শত শত শিক্ষার্থী চিকিৎসা বিজ্ঞানের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন এই প্রতিষ্ঠানে।
এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে নতুন অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নিউরোসার্জারি বিভাগের অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদের প্রশাসনিক ও পেশাগত দক্ষতা নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
সহকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ও শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত। নিউরোসার্জারি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি চিকিৎসাসেবায় পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণের জন্যও পরিচিত ছিলেন। ফলে নতুন দায়িত্বে তিনি কলেজ ও হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবেন বলে অনেকেই আশাবাদী।
বর্তমানে দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রোগীর চাপ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকট এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা প্রায় সব বড় হাসপাতালেরই সাধারণ সমস্যা। এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও এর ব্যতিক্রম নয়। বিশেষ করে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রধান হাসপাতাল হওয়ায় এখানে রোগীর চাপ অনেক বেশি।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি মেডিকেল শিক্ষার মান উন্নয়নও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন অধ্যক্ষের নেতৃত্বে এসব বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
চিকিৎসা শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি মেডিকেল কলেজের উন্নয়ন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে জড়িত থাকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা। তাই নতুন অধ্যক্ষের সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হবে সমন্বয় ও সুশাসন নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, ক্লাস ও পরীক্ষার নিয়মিততা বজায় রাখা এবং গবেষণামুখী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার ও বহির্বিভাগে কার্যকর তদারকি বাড়ানোর দাবিও রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে দক্ষ প্রশাসক ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা—দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য বজায় রেখে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হয়। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা নেতৃত্বে এলে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি দেশের স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। এখানকার বহু চিকিৎসক দেশে-বিদেশে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক নেতৃত্বে পরিবর্তন মানেই নতুন প্রত্যাশা ও নতুন পরিকল্পনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়া।
সিলেট অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছেও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। উন্নত চিকিৎসার আশায় প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে আসেন। ফলে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি সবসময়ই আলোচনায় থাকে।
চিকিৎসক মহলের একাংশ মনে করছেন, নতুন অধ্যক্ষ দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিতে পারেন। বিশেষ করে রোগীদের ভোগান্তি কমানো, চিকিৎসাসেবা সহজ করা এবং বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই আশা করছেন, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেডিকেল শিক্ষাকে আরও উন্নত করতে প্রয়োজন গবেষণার পরিবেশ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা।
নতুন দায়িত্ব নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিলেও ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।
সিলেটবাসীর প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আরও কার্যকর, আধুনিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং মেডিকেল শিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের স্বাস্থ্য খাতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে—এমন আশাই সংশ্লিষ্ট সবার।


