প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজের দর্পণ, মানুষের প্রত্যাশার প্রতিচ্ছবি এবং গণতন্ত্রের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। সেই দায়িত্ববোধকে সামনে রেখে দীর্ঘ সাত বছর ধরে সংবাদপত্রের জগতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে দৈনিক দেশ রূপান্তর। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাহসী, বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জন করা এই জাতীয় দৈনিকটির সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সিলেটে উদযাপিত হয়েছে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে।
বুধবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। কেক কাটা, আলোচনা সভা এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয় দেশ রূপান্তরের পথচলার সাত বছর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বক্তব্যে বলেন, একটি গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার বিশ্বাসযোগ্যতা। দেশ রূপান্তর অল্প সময়ের মধ্যেই সেই আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে তারা পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে, যা বর্তমান সময়ের সাংবাদিকতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। গণমাধ্যম যদি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল থাকে, তাহলে সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের সচেতনতা তৈরি হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও দেশ রূপান্তর সাহসী সাংবাদিকতার ধারা বজায় রেখে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সংবাদ পরিবেশনের ধরন বদলে গেছে। প্রতিযোগিতার এই সময়ে একটি সংবাদমাধ্যমের জন্য বস্তুনিষ্ঠতা ধরে রাখা সহজ নয়। তারপরও দেশ রূপান্তর দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে নিজেদের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, মানুষের আস্থা অর্জন করা একটি পত্রিকার জন্য সবচেয়ে বড় সাফল্য। সংবাদমাধ্যম যখন জনগণের ভাষা হয়ে ওঠে, তখনই সেটি প্রকৃত অর্থে সমাজের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। তিনি দেশ রূপান্তরের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের প্রাণ। রাষ্ট্র ও সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরতে গণমাধ্যমের বিকল্প নেই। দেশ রূপান্তর বিগত বছরগুলোতে যেভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।
আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ফখরুল ইসলাম। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মানের আবহ। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাংবাদিক ও অতিথিরা দেশ রূপান্তরের বিভিন্ন প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী কাজ এবং সাহসী সংবাদ পরিবেশনের বিষয়গুলো স্মরণ করেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তার, ভুয়া তথ্যের ছড়াছড়ি এবং নানা চাপের মধ্যেও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন কাজ। এমন বাস্তবতায় যেসব সংবাদমাধ্যম সত্যনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছে, তারা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্র তৈরি করছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন, দৈনিক সিলেটের মানচিত্র পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফয়সল আহমদ বাবলু, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, সাংবাদিক আনন্দ সরকার, শাহীন আহমদ, ফয়জুল আহমদ, সাদেক আজাদ, এম ইজাজুল হক, মামুন হাসান এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহাররঞ্জন পুরকায়স্থসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের অনেকেই বলেন, একটি সংবাদপত্রের পথচলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা নয়, এটি সমাজের পরিবর্তন, মানুষের প্রত্যাশা ও সময়ের প্রতিফলনও বটে। দেশ রূপান্তর গত সাত বছরে নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পাশাপাশি মানবিক গল্প, উন্নয়ন সংবাদ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার মধ্য দিয়ে পাঠকের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করেছে।
আয়োজনের একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। এ সময় উপস্থিত অতিথি ও সাংবাদিকদের মধ্যে এক উচ্ছ্বসিত পরিবেশ তৈরি হয়। শুভেচ্ছা বিনিময় এবং স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সিলেটের গণমাধ্যম অঙ্গনের প্রবীণ ও নবীন সাংবাদিকদের মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এই আয়োজন শুধু একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নয়, বরং সাংবাদিকতা পেশার দায়বদ্ধতা ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবনারও সুযোগ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন অনেকে।
দেশ রূপান্তরের এই বর্ষপূর্তি আয়োজনে উঠে এসেছে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে— গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা এখনো অনেক। আর সেই প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল, সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। সেই পথ ধরেই সামনের দিনগুলোতেও দেশ রূপান্তর এগিয়ে যাবে— এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীরা।


