প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটের স্বাস্থ্যশিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী। তাঁর এই নিয়োগ শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং স্বাস্থ্যশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। উপসচিব রাহেলা রহমত উল্লাহ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী চার বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতি নিতে হবে, যা প্রচলিত বিধান অনুযায়ী একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী ইতোমধ্যে প্রশাসনিক দক্ষতা, একাডেমিক নেতৃত্ব এবং চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়নে তাঁর প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে কলেজে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং গবেষণামুখী কার্যক্রম জোরদার করার মতো নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। ফলে তাঁর উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ অনেকের কাছেই প্রত্যাশিত ছিল।
নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মহলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে যে, তিনি সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, গবেষণানির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে সক্ষম হবেন। স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পাশাপাশি চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি ‘সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৮’ এর ১২ ধারা অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গবেষণা কার্যক্রমের তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর ওপর বর্তাবে। একই সঙ্গে তিনি তাঁর বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এই নিয়োগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের প্রয়োজনে যে কোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার বিধান রাখা হয়েছে। এটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি প্রচলিত কাঠামো, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক।
এর আগে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল পাটোয়ারী। তাঁর সময়কালে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে এবং একাধিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরীর দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতা নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যশিক্ষা খাত বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম এখন সময়ের দাবি। এই প্রেক্ষাপটে নতুন উপাচার্যের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতা নির্ভর করে এর নেতৃত্বের ওপর। উপাচার্য যদি দূরদর্শী ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেন, তবে তা পুরো স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরীর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণ সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
শিক্ষক, চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এই নিয়োগকে ঘিরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করবেন এবং গবেষণার সুযোগ বাড়াবেন। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নেও তাঁর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এর অধীনে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুধু শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার ওপর এর প্রভাব রয়েছে।
নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সিলেটের স্বাস্থ্যখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। এখন সময়ই বলে দেবে, তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় কতটা এগিয়ে যেতে পারে এবং দেশের স্বাস্থ্যশিক্ষায় কী ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।


