প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট বিভাগে টানা চারদিন ধরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই বর্ষণের ফলে সিলেট নগরীসহ আশপাশের নিচু এলাকাগুলোতে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে আগামী ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদ Md. Shahinul Islam স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সময়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪৪ মিলিমিটার থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে, আর অতি ভারী বৃষ্টিপাত ১৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বল্প সময়ে এ ধরনের অতিবৃষ্টি হলে নগর ও গ্রামীণ এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চল এবং এর সংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়েছে, যা ধীরে ধীরে সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাবে সিলেটসহ আশপাশের অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢাল ও নদী-নালা ঘেরা এই অঞ্চলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে না যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সিলেট শহর দীর্ঘদিন ধরেই জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছে। বর্ষা মৌসুমে কিংবা অতিবৃষ্টির সময় শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। সড়ক, বাজার এলাকা, আবাসিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। নতুন এই পূর্বাভাসে সেই পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে সিলেটের সীমান্তবর্তী এবং টিলা অঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ছোটখাটো ভূমিধসের ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নগরবাসীর মধ্যে ইতোমধ্যেই এই পূর্বাভাস নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, টানা বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে, পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নাগরিক সেবাতেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ এবং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে এই ধরনের টানা বর্ষণ দেখা দিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাতের ধরনে অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে, যা অনেক সময় স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আবহাওয়াগত পরিস্থিতি শুধু সিলেট নয়, পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, পাহাড় ও নদীর ঘনত্ব এবং নগরায়নের চাপ মিলিয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাব অনেক বেশি হয়ে থাকে।
এদিকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকা এবং পানি জমে যাওয়া স্থানে চলাচল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিলেটের ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরাও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। টানা বৃষ্টিতে বাজার কার্যক্রম, যানবাহন চলাচল এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, আগামী চারদিন সিলেটবাসীর জন্য আবহাওয়া পরিস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে যথাযথ প্রস্তুতি ও সতর্কতা গ্রহণ করা গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার নজর আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি এবং প্রশাসনের প্রস্তুতির দিকে।


