প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী Khondaker Abdul Muktidar। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য অতিরিক্ত মজুদ করা যাবে না এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা হলে তা বরদাশত করা হবে না।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে নিজ বাসভবনে সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং বাজার পরিস্থিতি, অবকাঠামোগত সমস্যা ও প্রশাসনিক হয়রানির মতো বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ধরনের মজুদদারি বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে এবং জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সে বিষয়ে সরকার সবসময় সচেষ্ট। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করেন।
সভায় সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ বাণিজ্যমন্ত্রীর সামনে বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। তারা জানান, সিলেট নগরের অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা করিম উল্লাহ মার্কেটের সামনে দীর্ঘদিন ধরে যানজট সমস্যা রয়েছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ সমস্যা সমাধানে রাস্তার মাঝখানে স্থাপন করা ডিভাইডার অপসারণের দাবি জানান তারা, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের যাতায়াতে সুবিধা হয়।
এছাড়া কালিঘাট এলাকায় সুরমা নদীর পাড় ঘেঁষে একটি আধুনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, এমন একটি অবকাঠামো নির্মিত হলে একদিকে যেমন শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসা ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলাকালে অযথা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। তারা মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান, যেন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা হয়, যাতে সৎ ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার না হন।
বাণিজ্যমন্ত্রী এসব অভিযোগ ও দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা একসঙ্গে চলতে হবে। ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সিলেট একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল, যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা জরুরি। সরকার এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের সহযোগিতায় সিলেটের ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও উন্নত হবে। তারা বলেন, সুষ্ঠু নীতিমালা ও প্রশাসনিক সহায়তা পেলে সিলেটের ব্যবসা খাত জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
এদিকে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যেও বাণিজ্যমন্ত্রীর এই কঠোর বার্তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এমন নির্দেশনা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, পরিবহন সমস্যা কিংবা অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুদদারি অনেক সময় বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে। এ অবস্থায় সরকারের কঠোর মনিটরিং ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
সিলেটের এই সভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বাজার ব্যবস্থাপনা ও নগর উন্নয়ন নিয়ে। ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়লে এসব সমস্যার সমাধান আরও দ্রুত সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, সিলেটে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়, বরং এটি বাজার নিয়ন্ত্রণ, নগর উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর কঠোর বার্তা ও আশ্বাসে ব্যবসায়ীরা যেমন দিকনির্দেশনা পেয়েছেন, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তির বার্তা পৌঁছেছে।


