প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট বিভাগে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিনব্যাপী জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের কারণে একাধিক এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। একই দিনে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়ও পৃথকভাবে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবে। এ ঘোষণাকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে সাময়িক ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দিরাই উপজেলার আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের জরুরি মেরামত ও নিয়মিত সংরক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। প্রায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হবে পুরো উপজেলা ও এর আশপাশের গ্রাহকদের।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মূলত ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই করা হয়।
অন্যদিকে সিলেট নগরীতেও একই দিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘোষণা দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত পাঠানটুলা ১১ কেভি ফিডারের আওতাধীন বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এই সময়ে পাঠানটুলা, শ্রাবণী, নিকুঞ্জ, লতিফ মঞ্জিল, পল্লবী আবাসিক এলাকা, মদিনা মার্কেট ও আশপাশের এলাকাগুলো বিদ্যুৎবিহীন থাকবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর ১১ কেভি ফিডারের আওতাধীন লাভলী রোড, তপোবন আবাসিক এলাকা, বর্ণমালা স্কুল সংলগ্ন এলাকা, আলমদিনা টাওয়ার, মদিনা মার্কেট বাজার এলাকা, আখরাগলি, বাগবাড়ী, সুরমা আবাসিক এলাকা এবং লেকসিটি এলাকার বাসিন্দারাও এ সময় বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত থাকবেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, লাইনের উন্নয়ন, জরুরি মেরামত এবং অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার জন্যই এই সাময়িক শাটডাউন প্রয়োজন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান লোড বৃদ্ধি, যান্ত্রিক চাপ এবং পুরনো লাইন সংস্কারের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে একাধিক এলাকায় একযোগে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘোষণায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গরমের এই সময়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গৃহস্থালি কাজে বিদ্যুৎ নির্ভরতা বেশি হওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের কাজ সাময়িক অসুবিধা সৃষ্টি করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি গ্রাহকদের জন্যই উপকারী হবে। কারণ উন্নত ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা, ট্রান্সফরমারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা রোধে এসব কাজ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ আরও জানিয়েছে, কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন এবং দ্রুততম সময়ে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ আগাম ঘোষণা দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অনলাইন ভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং শিক্ষার্থীরা এ পরিস্থিতিতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সাধারণ গ্রাহকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজগুলো আগেই সম্পন্ন করে রাখা এবং বিদ্যুৎ না থাকাকালীন সময়ে ধৈর্য ধরার জন্য। একই সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ ফিরে এলে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।
সব মিলিয়ে, দিরাই ও সিলেট নগরের একাধিক এলাকায় শনিবারের এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে সাময়িক হলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


