প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয় নিয়ে সারা দেশে যখন নতুন হিসাব-নিকাশ চলছে, তখন সিলেট অঞ্চলে এখনো পুরোনো ভাড়ায় চলছে বাস চলাচল। তবে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) থেকে সিলেটের বিভিন্ন রুটে নতুন বাস ভাড়া কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে। এতে দীর্ঘদিনের ভাড়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর গত বুধবার সারা দেশে বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে পরিবহন মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত হয়। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একসঙ্গে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় কিছুটা জটিলতা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন রুটে এখনো আগের ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট-ঢাকা, সিলেট-হবিগঞ্জ এবং সিলেট-মৌলভীবাজার রুটে নতুন ভাড়া কার্যকর না হওয়ায় যাত্রীরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও ভিন্ন ভিন্ন রুটে ভাড়ার পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যাত্রীদের অনেকেই বলছেন, একই দেশের ভেতরে ভাড়া কার্যকরের এই ভিন্নতা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ Bangladesh Road Transport Authority থেকে নতুন ভাড়ার তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে পাওয়ার পরই সিলেট অঞ্চলে ভাড়া সমন্বয় কার্যকর করা হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিলেটের পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, তারা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তবে এখনো সব রুটে সমন্বিত নির্দেশনা না পৌঁছানোয় ভাড়া কার্যকরের কাজ শুরু হয়নি। তারা আশা করছেন, রবিবারের মধ্যেই প্রয়োজনীয় গেজেট ও নির্দেশনা পেলে নতুন ভাড়া কার্যকর করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবেদ সুলতানা তারেক জানান, জ্বালানি তেলের দাম যে হারে বেড়েছে, তার সঙ্গে বর্তমান ভাড়া সমন্বয় যথেষ্ট হয়নি। মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে কিলোমিটারপ্রতি ২৮ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার ১১ পয়সা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়, যা তাদের মতে পরিচালন ব্যয় সামাল দিতে যথেষ্ট নয়।
তিনি আরও বলেন, নতুন ভাড়া কার্যকর করতে কিছু প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দেশনা পেলেই সিলেটসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নতুন ভাড়া কার্যকর করা হবে।
অন্যদিকে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, ভাড়া না বাড়ায় আপাতত স্বস্তি মিলছে, বিশেষ করে দৈনন্দিন যাত্রী ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য এটি কিছুটা আর্থিক চাপ কমিয়েছে। তবে একই সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন রুটে ভাড়ার অসামঞ্জস্য নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেক যাত্রী দ্রুত সারা দেশে একক ভাড়ানীতি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন, যাতে বিভ্রান্তি ও অনিয়ম কমে আসে।
সিলেট-ঢাকা রুটের অন্যতম পরিবহন প্রতিষ্ঠান এনা পরিবহন জানিয়েছে, বর্তমানে এই রুটে আগের ভাড়ায় ৬৭০ টাকায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির জিএম গোলাম মোস্তফা বলেন, এখনো নতুন ভাড়ার গেজেট পাওয়া যায়নি। তবে রবিবার নাগাদ নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে বলে তারা শুনেছেন।
এদিকে সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তবে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে ভাড়া কার্যকরের বিষয়টি এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। আশা করা হচ্ছে, রবিবারের মধ্যে সিলেট অঞ্চলে নতুন ভাড়া কার্যকর করা সম্ভব হবে। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় বর্তমান ভাড়া সমন্বয় পুরোপুরি যথেষ্ট নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু পরিবহন খাতেই নয়, পুরো অর্থনীতিতে একটি সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এর ফলে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রা এবং নিত্যদিনের যাতায়াতে এই প্রভাব বেশি অনুভূত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে সিলেটে নতুন বাস ভাড়া কার্যকরের বিষয়টি এখন সময়ের অপেক্ষা। প্রশাসনিক নির্দেশনা এবং গেজেট প্রকাশের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যাত্রী ও পরিবহন মালিক উভয় পক্ষই চাইছে, এই প্রক্রিয়া যেন দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে আসে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলেটসহ সারাদেশেই পরিবহন খাতে একটি পরিবর্তনের ধাপ চলছে। এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর ও জনবান্ধব হয়, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের ওপর।


