প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার একযোগে উপজেলার চারটি কেন্দ্রে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা প্রশাসনের তত্ত্বাবধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারের পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত ছিল। এর মধ্যে ৮৯৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ৩৮৭ জন অনুপস্থিত থাকে। উপস্থিতির হার তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক হলেও অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে।
পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় উপজেলার নির্ধারিত চারটি কেন্দ্রে। কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি হয়। কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে পরীক্ষার সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করেন।
পৌরশহরের পি সি সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ছিল অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেখানে মোট ৫০৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০৪ জন অনুপস্থিত ছিল বলে জানা যায়। তবে অনুপস্থিতির হার থাকলেও কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ এবং পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে।
পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন সতর্কতার সঙ্গে। পাশাপাশি শিক্ষক ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরীক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।
পরীক্ষার সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম জুবায়ের আলম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম জামাল উদ্দিন, পি সি সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, কেন্দ্রের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ছাইফুল হক (কলাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক) এবং সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নুরুল হক (শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক)।
তারা পরীক্ষার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জানান, পরীক্ষার পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়মতান্ত্রিক। কোথাও কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষার্থীরাও শান্তভাবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
এছাড়া বড়লেখা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সাংবাদিক খলিলুর রহমান এবং সদস্য রেদওয়ান আহমদ রুম্মানসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা পরীক্ষার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তারা জানান, এবারের পরীক্ষা আয়োজন ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং প্রশাসনের প্রস্তুতি ছিল প্রশংসনীয়।
পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক আরতি রাণী দে ও রিনা রাণী দে দায়িত্ব পালন করেন। তারা পরীক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন এবং কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করেন।
পরীক্ষা চলাকালীন সময়জুড়ে স্বাস্থ্যবিধি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করেন। বিশেষ করে ছোট শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও চাপমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক ও অভিভাবকরা সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করেন।
স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুধু একটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই এ ধরনের পরীক্ষার সুষ্ঠু আয়োজন শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অভিভাবকরাও পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপমুক্তভাবে পরীক্ষা দিতে পেরেছে, যা ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শিক্ষা কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রেখে সকল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তারা বলেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বড়লেখা উপজেলার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা একটি সফল আয়োজন হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরীক্ষার পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


