প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট-ঢাকা-সিলেট রুটে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রীচাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রীদের বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এক মাস বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট রুটে সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে আসনের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্ধারিত ট্রেনগুলোর সঙ্গে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ জন্য রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে চলাচলকারী একাধিক আন্তঃনগর ট্রেনে বিভিন্ন ধরনের কোচ যুক্ত হতে পারে। এর মধ্যে পারাবত এক্সপ্রেসে একটি এসি চেয়ার কোচ সংযোজনের প্রস্তাব রয়েছে। ট্রেনটির নম্বর ৭০৯-৭১০। একইভাবে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের একটি ট্রেনের সঙ্গে একটি শোভন চেয়ার কোচ যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
উপবন এক্সপ্রেসের সঙ্গেও একটি শোভন চেয়ার কোচ যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। কালনী এক্সপ্রেসে একটি শোভন চেয়ার কোচ সংযোজনের বিষয়টিও প্রস্তাবে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উপবন এক্সপ্রেস ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের অপর ট্রেনগুলোর সঙ্গে একটি করে এসি চেয়ার এবং একটি করে শোভন চেয়ার কোচ যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
রেলওয়ের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব অতিরিক্ত কোচ ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এক মাস সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে অক্টোবর মাসজুড়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনে বাড়তি আসনের ব্যবস্থা করা হবে।
ঢাকা ও সিলেটের মধ্যে যাতায়াতে আন্তঃনগর ট্রেন দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম। সড়কপথের তুলনায় ট্রেনে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক যাত্রা, নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং বিভিন্ন শ্রেণির আসনের সুবিধার কারণে অনেক যাত্রী রেলপথকে বেছে নেন। ফলে ছুটির সময়, উৎসব কিংবা বিভিন্ন মৌসুমে এই রুটে টিকিটের চাহিদা আরও বাড়তে দেখা যায়।
সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায় রাজধানীর সঙ্গে এ অঞ্চলের যোগাযোগের গুরুত্বও বেশি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আসেন। একই সঙ্গে সিলেট বিভাগের বিপুলসংখ্যক মানুষ শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে ঢাকায় যাতায়াত করেন। এ কারণে ঢাকা-সিলেট রুটে গণপরিবহনের ওপর নিয়মিত চাপ থাকে।
ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের উদ্যোগ সেই বাড়তি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার একটি পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের নথিতে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে আসনসংখ্যা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অতিরিক্ত আসন যুক্ত হলে টিকিটের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন শ্রেণির আসনের ব্যবস্থা রয়েছে। অতিরিক্ত কোচের প্রস্তাবেও এসি চেয়ার ও শোভন চেয়ার—দুই ধরনের কোচ রাখা হয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত আসন সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের প্রস্তাব এবং তা বাস্তবায়নের বিষয়টি আলাদা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরই চূড়ান্তভাবে কোন ট্রেনে কতটি কোচ যুক্ত হবে এবং কোন তারিখ থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে। তাই বর্তমানে এটিকে রেলওয়ের পরিকল্পনা বা প্রস্তাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
যাত্রীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের পর টিকিট ব্যবস্থাপনা। নতুন আসন যুক্ত হলে সেগুলোর টিকিট কখন থেকে বিক্রি হবে, অনলাইন ও কাউন্টার ব্যবস্থায় কীভাবে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং অতিরিক্ত কোচগুলো প্রতিদিন চলবে কি না—এসব বিষয়ে রেলওয়ের পরবর্তী নির্দেশনা প্রয়োজন হবে।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে এক মাসের জন্য অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের কথা বলা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, যাত্রীচাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে যাত্রী চাহিদা ও পরিচালন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ ধরনের ব্যবস্থা বাড়ানো বা পরিবর্তন করা হতে পারে।
ঢাকা-সিলেট রুটের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা হলো পর্যাপ্ত আসন পাওয়া এবং টিকিট সংগ্রহের ক্ষেত্রে ভোগান্তি কমানো। বিশেষ করে চাহিদার তুলনায় আসনসংখ্যা কম থাকলে টিকিটের জন্য যাত্রীদের বাড়তি প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয়। অতিরিক্ত কোচ যুক্ত হলে অন্তত সাময়িকভাবে সেই চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রেলপথের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা, নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রীসেবার মানও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু আসনসংখ্যা বাড়ালেই যাত্রীদের সামগ্রিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উন্নত হয় না। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন চলাচল, স্টেশনে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং টিকিটের স্বচ্ছ প্রাপ্যতাও যাত্রীসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ঢাকা-সিলেট রুটে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের প্রস্তাব তাই শুধু আসনসংখ্যা বাড়ানোর একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়; এটি বাড়তে থাকা যাত্রীচাহিদার সঙ্গে রেলসেবার সক্ষমতা সামঞ্জস্য করার একটি প্রচেষ্টাও। অক্টোবর মাসে প্রস্তাবিত কোচগুলো যুক্ত হলে এই রুটের যাত্রীদের জন্য বাড়তি আসনের সুযোগ তৈরি হবে।
এখন সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পরবর্তী নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে আছেন যাত্রীরা। প্রস্তাব অনুযায়ী ব্যবস্থা কার্যকর হলে ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নির্দিষ্ট আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত কোচ চলাচল করবে। এতে ঢাকা-সিলেট রুটের বাড়তি যাত্রীচাপ সাময়িকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।


