শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা হবে প্রতিদিন

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। গণনা শেষে মোট অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজের জন্য ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। অবশিষ্ট ৬৫ শতাংশ অর্থ মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মাজারের অর্থ সংরক্ষণ, ব্যয় ও পরিচালনা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়। সভা শেষে কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন সিদ্ধান্তগুলোর কথা জানান।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা থাকবে। ওই ব্যাংক হিসাব সিলেটের জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। ফলে মাজারের উন্নয়নকাজের জন্য নির্ধারিত অর্থ আলাদা হিসাবে সংরক্ষিত থাকবে এবং এর ব্যবহারে যৌথ প্রশাসনিক তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে দান থেকে পাওয়া অর্থের ৬৫ শতাংশ মাজারের নিয়মিত পরিচালন ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে। মাজারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা, প্রয়োজনীয় খরচ এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে এই অর্থ ব্যয় করার কথা জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে উন্নয়নকাজের জন্য অর্থ আলাদা করে রাখার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে নিয়মিত পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্যও অর্থের একটি অংশ মাজার ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকবে।

দানের অর্থ গণনা ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাজারের পক্ষ থেকে একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে। জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পদে একজন অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন অথবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে।

শুধু অর্থ ব্যবস্থাপনা নয়, মাজারের সার্বিক পরিচালনা ও উন্নয়নকাজ তদারকিতেও নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাত সদস্যের ওই কমিটির আহ্বায়ক থাকবেন সিলেটের জেলা প্রশাসক। কমিটিতে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ ও সিলেট জেলা পরিষদের একজন করে প্রতিনিধি এবং পুলিশ সুপার থাকবেন। মাজারের মোতোয়াল্লি কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যানেজার কমিটির সাচিবিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করবেন।

জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন কমিটি মাজারের নিরাপত্তা ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এর ফলে মাজার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং মাজার ব্যবস্থাপনার প্রতিনিধিদের সমন্বিত অংশগ্রহণের একটি কাঠামো তৈরি হচ্ছে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত কয়েক মাস ধরে মাজারের দানবাক্সের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলা আলোচনা ও বিতর্ক। চলতি বছরের জুনে মাজারের দানবাক্স ও দানের ডেগ নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কথা তুলে ধরে দানবাক্স ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়। একই সময়ে মাজারের প্রচলিত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে আসে।

এরপর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরির জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে নেতৃত্ব দিয়ে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে একটি যৌক্তিক ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামোর সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েও কমিটির সিদ্ধান্ত না আসায় মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ ও দানবাক্সের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

এই সময়ের মধ্যে মাজারের দানবাক্সের অর্থ কয়েক দফায় প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হওয়ার পর মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এসব গণনায় দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রৌপ্যের সামগ্রীও পাওয়া যায়।

১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খোলা হলে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় গণনা করে পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। ওই দিনও নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়।

১৯ সেপ্টেম্বরের গণনার আগে পর্যন্ত আগের তিন দফায় পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বলে সিলেটটুডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। চতুর্থ দফার অর্থ যোগ হলে প্রকাশ্যে গণনা করা চার দফায় পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা। এর বাইরে প্রতিটি দফায় বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণ ও রৌপ্যের সামগ্রীও পাওয়া গেছে।

প্রকাশ্যে অর্থ গণনার এই প্রক্রিয়া মূলত মাজারের আয়-ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। তবে এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্নমতও ছিল। মাজারের খাদেমদের পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছিল, দানবাক্সের অর্থ জেলা প্রশাসনের হিসাবে জমা থাকায় মাজারের নিয়মিত ব্যয় মেটাতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের দাবি ছিল, মাজারের দৈনন্দিন পরিচালনায় নিয়মিত অর্থের প্রয়োজন হয়।

নতুন কাঠামোয় দৈনন্দিন ব্যয়ের জন্য মোট দানের ৬৫ শতাংশ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নয়নকাজের জন্য ৩৫ শতাংশ আলাদা ব্যাংক হিসাবে রাখার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কাজের অর্থ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সিলেটের ঐতিহাসিক এই মাজারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ আসেন। ভক্তদের দান, মানত ও অন্যান্য অনুদান মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে এসব অর্থ কীভাবে সংগ্রহ, গণনা, সংরক্ষণ ও ব্যয় করা হবে—তা নিয়ে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য একটি কাঠামো থাকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর প্রতিদিন দানবাক্সের অর্থ গণনা, নির্ধারিত অংশ ব্যাংকে জমা এবং বাকি অর্থ পরিচালন ব্যয়ে ব্যবহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি নিরাপত্তা ও উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ম্যানেজার, হিসাবরক্ষক ও অফিস সহকারী নিয়োগের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার কথা।

দীর্ঘ কয়েক মাসের আলোচনা, প্রকাশ্য অর্থ গণনা এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্নের পর মঙ্গলবারের সভার মাধ্যমে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি নির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারিত হলো। এখন এই কাঠামো বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং নিয়মিত হিসাব ও তদারকির মাধ্যমে দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় কতটা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়, সেটিই হবে পরবর্তী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

এ বছর শুরু হচ্ছে না স্থানীয় সরকার নির্বাচন

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শ্রীমঙ্গলে ভাতিজা হত্যার ঘটনায় চাচা গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আলোচনার সেই বিউটি পাল এবার গুণী শিক্ষক সম্মাননায়

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুনামগঞ্জে নাশকতার মামলায় সাবেক পিপি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট-ঢাকা রুটের ট্রেনে বাড়ছে অতিরিক্ত কোচ

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

এ বছর শুরু হচ্ছে না স্থানীয় সরকার নির্বাচন

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শ্রীমঙ্গলে ভাতিজা হত্যার ঘটনায় চাচা গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আলোচনার সেই বিউটি পাল এবার গুণী শিক্ষক সম্মাননায়

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুনামগঞ্জে নাশকতার মামলায় সাবেক পিপি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট-ঢাকা রুটের ট্রেনে বাড়ছে অতিরিক্ত কোচ

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট বেতার কমপ্লেক্সে যুবকের মরদেহ, তদন্তে পুলিশ

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

গফরগাঁওয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, আসামিদের বাড়িতে আগুন

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ