প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার আদিত্যপুর-গহরমলি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও উঠে গেছে পিচ, কোথাও ভেঙে গেছে পাকা সড়কের অংশ। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি ও কাদা জমে চলাচলের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি ব্যবহারকারী স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বালাগঞ্জ-তাজপুর সড়কের আদিত্যপুর এলাকা থেকে শুরু হয়ে সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কের গহরমলি এলাকায় গিয়ে যুক্ত হয়েছে। ফলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে এর ভূমিকা রয়েছে। বালাগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থায় স্থানীয় সড়কগুলোর গুরুত্ব সরকারি নথিতেও প্রতিফলিত হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে কোথাও কোথাও গর্তগুলো সহজে বোঝার উপায় থাকে না। যানবাহনের চাকা এসব গর্তে পড়ে ঝাঁকুনি খেয়ে চলাচল করছে। ছোট যানবাহনগুলোকে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে চলতে হচ্ছে। এতে একদিকে সময় বাড়ছে, অন্যদিকে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তিও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু গর্তই নয়, সড়কটির প্রস্থও চলাচলের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই পাশে পাকা অংশের বাইরে পর্যাপ্ত মাটি না থাকায় দুটি ছোট গাড়ি পাশাপাশি চলাচলের সময় একটিকে প্রায়ই থেমে যেতে হয়। কোথাও কোনো যানবাহন পাশ কাটাতে গেলে সড়কের কিনারায় চলে যেতে হয়। এতে যানজট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সড়কের নিচু অংশগুলোতে পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে চালকদের ধীরগতিতে চলতে হয়। স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য সড়কটির ওপর নির্ভরশীল মানুষের কাছে এটি এখন কেবল একটি যোগাযোগপথ নয়, বরং নিয়মিত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সড়কের দুরবস্থা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ২০২১ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে আদিত্যপুর-রিফাতপুর-গহরমলি সড়কের দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার কথা উঠে এসেছিল। তখনও সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি এবং বর্ষায় কাদা-পানিতে দুর্ভোগের কথা স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
পুরোনো প্রতিবেদনগুলোর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল থেকে বোঝা যায়, সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থায়ী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সড়কটির বর্তমান অবস্থা ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়দের নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বালাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুনিম বলেন, সড়কটি আকারে ছোট হলেও স্থানীয় যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি সংস্কারের বিষয়টি সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিককে দেখিয়েছেন। শিগগিরই বরাদ্দ অনুমোদন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু গর্ত ভরাট করে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করার বদলে সড়কটির প্রয়োজনীয় অংশে টেকসই সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাট করে প্রস্থ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা দরকার। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপত্তাও বাড়বে বলে তারা মনে করছেন।
বালাগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম এলজিইডির আওতায় পরিচালিত হয়। সংস্থাটির বালাগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটেও সড়ক-সংক্রান্ত তথ্য ও প্রকল্প কার্যক্রমের জন্য আলাদা রোড ডাটাবেইজ ও প্রকল্প পরিদর্শন ব্যবস্থা রয়েছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, আদিত্যপুর-গহরমলি সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে জানা গেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত প্রকল্পের অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে বাস্তব কাজ শুরু করা হবে। কারণ বর্ষা বা বৃষ্টির সময় সড়কটির গর্তে পানি জমে যাওয়ায় সাময়িক মেরামত করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নাও দিতে পারে। স্থায়ী সংস্কারের পাশাপাশি সড়কের প্রস্থ ও দুই পাশের মাটির অংশ নিয়েও পরিকল্পনা করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
বালাগঞ্জের মতো উপজেলা পর্যায়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে স্থানীয় সড়ক যোগাযোগ সরাসরি যুক্ত। একটি সংযোগ সড়কের দুরবস্থা তাই শুধু যানবাহন চলাচলের সমস্যা তৈরি করে না; এর প্রভাব পড়ে স্থানীয় অর্থনীতি ও মানুষের সময়ের ওপরও। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভাঙাচোরা ও সরু সড়ক বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।
এ অবস্থায় আদিত্যপুর-গহরমলি সড়কের সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন হবে—এমন প্রত্যাশাই স্থানীয়দের। এলজিইডির প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সড়কটির গর্ত, ভাঙা পিচ এবং পাশের মাটির সংকট একসঙ্গে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান সড়ক ব্যবহারকারীরা।


