প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট নগরের এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক নারী ও তাঁর ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে বড়শালা বাইপাসসংলগ্ন ফরিদাবাদ আবাসিক এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ।
আটক দুজন হলেন নুরজাহান বেগম (৬৩) ও তাঁর ছেলে মামুন আহমদ (৩৮)। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা বর্তমানে নগরের ফরিদাবাদ এলাকার হাজীর বাসার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। নুরজাহান বেগমের স্থায়ী ঠিকানা হবিগঞ্জের মাধবপুর থানার সিদ্দুপুর এলাকায়।
সিলেট মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখা মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযানের বিষয়টি জানায়। পুলিশ বলছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় মা ও ছেলেকে আটক করা হয় এবং তাঁদের হেফাজত থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে বড়শালা বাইপাসের ফরিদাবাদ আবাসিক এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পাওয়া মাদকদ্রব্যের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে আটক দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, নগর ও নগরের আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ব্যক্তিদের আটক করা হচ্ছে। তবে কোনো ব্যক্তিকে আটকের পর তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
সিলেট নগরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও যোগাযোগপথে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে গোপন তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে জানানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদাবাদ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া মাদকদ্রব্য রাখা, বহন, কেনাবেচা বা সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড আইনত দণ্ডনীয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের ধরন, পরিমাণ এবং মামলার ধারার ওপর ভিত্তি করে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে পুলিশ জানিয়েছে, নুরজাহান বেগম ও মামুন আহমদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মাদকবিরোধী অভিযান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি বিষয়। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। একই সঙ্গে এসব অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই এবং আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক মা-ছেলেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এখন আইনগত প্রক্রিয়ায় এগোবে। মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অপরাধ প্রতিরোধ, মাদকদ্রব্যের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ফরিদাবাদে মা-ছেলেকে আটকের এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও পুলিশি অভিযোগ ও আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। আটক হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়; মামলার তদন্ত, প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই অভিযোগের আইনগত নিষ্পত্তি হবে।
এদিকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী মামলার কার্যক্রমও এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


