৮ দিন পর চট্টগ্রামে মিলল গোলাপগঞ্জের চুনু মিয়ার লাশ

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা থেকে নিখোঁজ হওয়ার আট দিন পর চট্টগ্রামে উদ্ধার হয়েছে আব্দুল আলী চুনু মিয়া নামের এক বৃদ্ধের মরদেহ। দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের উদ্বেগ, খোঁজাখুঁজি ও অনিশ্চয়তার পর শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর খবর স্বজনদের সামনে আসে। ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, বরং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্নও তুলেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

নিহত আব্দুল আলী চুনু মিয়ার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ এপ্রিল বিকেল প্রায় ৫টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, তিনি স্থানীয় মীরগঞ্জ বাজারে যাচ্ছেন। তবে এরপর আর তিনি বাড়িতে ফেরেননি।

প্রথমদিকে পরিবার ভেবেছিল হয়তো পরিচিত কারও বাড়িতে গেছেন অথবা কোনো কাজে আটকে পড়েছেন। কিন্তু রাত গড়িয়ে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। পরদিন থেকে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, আশপাশের এলাকা, বাজার, হাসপাতাল—সব জায়গায় খোঁজ নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও সহায়তা চান।

চুনু মিয়ার ছেলে সাবের আহমদ জানান, তার বাবা বয়সের কারণে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন, তবে নিয়মিত চলাফেরা করতেন। হঠাৎ এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুরো পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। প্রতিদিনই তারা নতুন আশায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালিয়েছেন। কিন্তু কোথাও কোনো তথ্য মেলেনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়ভাবে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হলেও কোনো স্বজন বা পরিচিত ব্যক্তি পাওয়া যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয় এবং পরে চট্টগ্রামের আনজুমানে মফিজুল কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে গোলাপগঞ্জে চুনু মিয়ার পরিবার তখনো তাকে খুঁজছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় পরিচিতজন এবং বিভিন্ন সূত্রে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন তারা। পরে কোনোভাবে চট্টগ্রামে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহের তথ্য তাদের নজরে আসে। এরপর নিহতের ছেলে সাবের আহমদ চট্টগ্রামে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিভিন্ন আলামত ও তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হন যে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তার বাবারই।

এই ঘটনার পর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চুনু মিয়া ছিলেন শান্ত স্বভাবের এবং পরিচিত একজন মানুষ। এলাকায় সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। তাই তার নিখোঁজ ও মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যেও গভীর শোক বিরাজ করছে।

ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে। কীভাবে গোলাপগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হওয়া একজন বৃদ্ধ চট্টগ্রামে পৌঁছালেন, তার মৃত্যুর পেছনে কোনো রহস্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, দেশে প্রায়ই অজ্ঞাত পরিচয়ে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। কিন্তু পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় অনেক পরিবার শেষ পর্যন্ত প্রিয়জনের সন্ধান পায় না। আধুনিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত তথ্যভান্ডার থাকলে হয়তো দ্রুত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতো। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশ, হাসপাতাল, মর্গ ও সামাজিক সেবামূলক সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও সমন্বয় প্রয়োজন। বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় পৃথকভাবে তথ্য সংরক্ষণ করা হলেও কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ না থাকায় অনেক সময় পরিচয় শনাক্তে বিলম্ব হয়। এতে পরিবারগুলোকে দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

চুনু মিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা এখনো পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চান। কীভাবে তিনি চট্টগ্রামে গেলেন এবং সেখানে তার কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন তারা। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো পরিবারকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য প্রশাসনের আরও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।

এদিকে গোলাপগঞ্জে স্থানীয়ভাবে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, একজন বৃদ্ধ মানুষ কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন, কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি—এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পরে দূরের একটি শহরে অজ্ঞাত পরিচয়ে তার মরদেহ দাফন হওয়ার খবর আরও হৃদয়বিদারক।

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবার ও সমাজে বয়স্ক মানুষদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশ, মানসিক চাপ কিংবা শারীরিক দুর্বলতার কারণে বয়স্করা পথ হারিয়ে ফেলেন। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।

আব্দুল আলী চুনু মিয়ার মৃত্যুর ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, একটি পরিবারের কাছে একজন মানুষ শুধু একজন সদস্য নন, তিনি পুরো পরিবারের আবেগ, স্মৃতি ও আশ্রয়ের প্রতীক। আর সেই মানুষটি হঠাৎ হারিয়ে গেলে পরিবার যে অসহায়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে পড়ে, তার কোনো সহজ ভাষা নেই।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

খিত্তারগাঁওয়ে অসহায় পরিবারের পাশে জামায়াতের সহায়তা

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

টানা বৃষ্টি ও ঢলে মৌলভীবাজারে পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটজুড়ে বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

তারেক রহমানের সভা ঘিরে সিলেটে বিএনপির ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কমলগঞ্জে ঝড়-বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন, ডুবছে বোরোধান

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

খিত্তারগাঁওয়ে অসহায় পরিবারের পাশে জামায়াতের সহায়তা

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

টানা বৃষ্টি ও ঢলে মৌলভীবাজারে পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটজুড়ে বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

তারেক রহমানের সভা ঘিরে সিলেটে বিএনপির ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কমলগঞ্জে ঝড়-বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন, ডুবছে বোরোধান

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

পরীক্ষা দিতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল এসএসসি পরীক্ষার্থীর

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বজ্রপাত আতঙ্কে হাওরের কৃষক, বাড়ছে আশ্রয়কেন্দ্রের দাবি

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

স্বামীর সম্পদ নিয়ে দ্বন্দ্বে নিরাপত্তাহীন সমছুন্নেহার

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ