প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
দেশের ব্যাংকিং খাতের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংক পিএলসি এবং সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে কলেজটির প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক কার্যক্রমে এক নতুন ডিজিটালাইজেশন যুগের সূচনা হলো। এখন থেকে গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে বা ব্যাংকে সশরীরে উপস্থিত না হয়ে অত্যন্ত সহজে, দ্রুত ও নিরাপদে তাদের যাবতীয় ফি পরিশোধ করতে পারবেন। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় শিক্ষা সেবাকে শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহল। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে এই চুক্তিটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার এক অনাড়ম্বর অথচ অত্যন্ত গুরুত্ববহ পরিবেশে এই চুক্তিপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর পক্ষে প্রিন্সিপাল অফিস সিলেটের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হিমাংশু আচার্য্য এবং গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের সুযোগ্য অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তির কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষকমণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষর শেষে দুই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
এই চুক্তির ফলে গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের একটি ভোগান্তির অবসান হতে চলেছে। এখন থেকে শিক্ষার্থীরা সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর অত্যাধুনিক ও বিশ্বস্ত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে তথা সোনাালী পেমেন্ট গেটওয়ে বা সংক্ষেপে এসপিজি ব্যবহার করে ঘরে বসেই তাদের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন। কলেজ সংক্রান্ত যেকোনো ফি যেমন- মাসিক বেতন, ভর্তি ফি, সেমিস্টার ফি, বিভিন্ন পরীক্ষার ফি এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক চার্জ এখন থেকে অনলাইনেই পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের আর নগদ টাকা পয়সা নিয়ে ব্যাংকে যাতায়াত করতে হবে না কিংবা দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এটি আরেকটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বর্তমান সময়ে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচানো এবং অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমকে আরও সহজতর করার ক্ষেত্রে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের জুড়ি মেলা ভার। গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনবহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সেবা চালু হওয়ার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় চলে এলেন। পূর্বে শিক্ষার্থীদের ফি পরিশোধের জন্য নানা ধরনের জটিলতা ও আর্থিক ঝামেলার মুখোমুখি হতে হতো। অনেক সময় দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যাংকে এসে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হতো। সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে স্বয়ংক্রিয় ও সহজতর হওয়ায় একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় বাঁচবে, অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও আসবে অভিনব শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংক পিএলসি সিলেটের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হিমাংশু আচার্য্য বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে সোনালী ব্যাংক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা খাতের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনে ব্যাংকটি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের সাথে এই চুক্তির মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতাই আরও সুদৃঢ় হলো। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের লেনদেন করতে পারবেন এবং ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান নিশ্চিত করা হবে।
অন্যদিকে, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হলে ডিজিটালাইজেশনের কোনো বিকল্প নেই। সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর সাথে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কারণে আমাদের কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখন খুব সহজেই তাদের বিভিন্ন ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে পারবে। এটি আমাদের কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে এক নতুন গতিশীলতা আনবে এবং শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি তাদের আধুনিক সুবিধা প্রদান করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ সবসময় সচেষ্ট রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজটি সিলেটের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। হাওর ও পাহাড়ি বেষ্টিত এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সিংহভাগই বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদ থেকে এসে এখানে পড়াশোনা করেন। অতীতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের টিউশন ফি বা ভর্তি ফি জমা দিতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো। বিশেষ করে বর্ষাকালে বা যাতায়াতের নানা অসুবিধার সময়ে শিক্ষার্থীদের কষ্ট বহুলাংশে বেড়ে যেত। এখন থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকেই নির্দিষ্ট পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে ফি পরিশোধ করা যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ চিরতরে দূর হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্যও সন্তানের টিউশন ফি পরিশোধ করা অনেক সহজ ও নিরাপদ হয়ে উঠল।
সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে বা এসপিজি বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতের একটি অন্যতম আস্থার প্রতীক। নিরাপদ লেনদেন এবং ব্যবহারবান্ধব ইন্টারফেসের কারণে এটি খুব অল্প সময়েই দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। যেকোনো ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে এই গেটওয়ের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব। গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা এই প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় তাদের ডিজিটাল লিটারেসি বা তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, সোনালী ব্যাংক পিএলসি এবং গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের মধ্যকার এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কল্যাণে এক দারুণ ইতিবাচক পদক্ষেপ। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের নির্ভরযোগ্য সেবা এবং একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রচেষ্টায় শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় যে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে, তা আগামী দিনে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। সময়ের সন্ধান অনলাইন এই মহতী উদ্যোগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে এবং আশা প্রকাশ করে যে, এর মাধ্যমে গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

