প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের একাধিক পয়েন্টে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য আটক করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে প্রসাধনী ও বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী, যা চোরাচালানের মাধ্যমে দেশের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রবিবার (২০ এপ্রিল) সিলেট সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবি। বাংলাবাজার, সোনালীচেলা, শ্রীপুর, দমদমিয়া, প্রতাপপুর, সংগ্রাম, তামাবিল, সোনারহাট এবং বিছনাকান্দি বিওপি এলাকায় একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ অভিযানে সীমান্তের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়িয়ে চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানে ভারতীয় গরু, জিরা, চিনি, টায়ার, শাড়ি, কম্বল, চকলেট, ক্রিম, অলিভ অয়েল, ফেসওয়াশ, সাবান, মেহেদি, বিস্কুট, বিড়ি এবং মদসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া সুপারি ও শিং মাছও আটক করা হয়। এছাড়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি বারকী নৌকাও জব্দ করা হয়েছে।
জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৮ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪০ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে, যা চোরাচালান চক্রের কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে বিজিবির নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পাচার কার্যক্রম ঘটতে না পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে তামাবিল ও বিছনাকান্দি অঞ্চলে পণ্য পাচারের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানা যায়। এসব এলাকায় নদীপথ ও পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে রাতের আঁধারে পণ্য আনা-নেওয়া করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করছে না, বরং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বৈধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আয়েও বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন। এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হলে চোরাচালান কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
বিজিবি জানিয়েছে, জব্দকৃত পণ্যের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বন্ধ করতে নিয়মিত ও কঠোর অভিযান প্রয়োজন। অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তা উভয়ই উপকৃত হবে।
এদিকে বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান আরও বাড়ানো হবে। বিশেষ করে চোরাচালান রুট চিহ্নিত করে সেগুলোতে নজরদারি জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে সিলেট সীমান্তে বিজিবির এই অভিযানকে চোরাচালান প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় অর্ধকোটি টাকার পণ্য জব্দের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আবারও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের অবস্থান শক্ত করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


