সিলেট জেলা হাসপাতাল চালুর উদ্যোগে নতুন নির্দেশনা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেট নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা আড়াইশ’ শয্যার জেলা হাসপাতালটি অবশেষে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বহু আলোচিত এই হাসপাতালটি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক জটিলতা, দায়িত্ব গ্রহণে অনীহা এবং সমন্বয়হীনতার কারণে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটি কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। ফলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভবনটি বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকায় জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের পাশেই নির্মাণ করা হয় ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালটি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও সমন্বয় ছাড়া হাসপাতাল নির্মাণের কারণে পরে সেটির দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায় স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয়নি এবং প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে হাসপাতালটির জনবল, যন্ত্রপাতি, প্রশাসনিক কাঠামো কিংবা পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে কোনো পরিকল্পনাও গড়ে ওঠেনি। এতে বিশাল এই ভবনটি কার্যত “বেওয়ারিশ” অবস্থায় পড়ে থাকে।

এদিকে সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ দিন দিন বাড়লেও নতুন এই হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে হতাশা বিরাজ করছিল। বিশেষ করে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীর চাপ কমাতে নতুন জেলা হাসপাতালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত বলে মনে করেন স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা।

গত ২ মে সিলেট সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অব্যবহৃত এই হাসপাতালের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্থানীয় বিভিন্ন মহল, চিকিৎসক ও নাগরিক প্রতিনিধিদের কাছ থেকে হাসপাতালটির বাস্তব চিত্র জানার পর তিনি এটি দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শুধু সিলেট জেলা হাসপাতাল নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্মাণের পরও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা আরও ছয়টি হাসপাতালের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত এসব হাসপাতাল পরিদর্শন করে চালুর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২ জুন ২০২৬ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এখন হাসপাতালটি চালুর সম্ভাব্য প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। হাসপাতাল ভবনের অবকাঠামোগত অবস্থা, প্রয়োজনীয় সংস্কার, যন্ত্রপাতি স্থাপন, জনবল নিয়োগ এবং প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেট বিভাগে চিকিৎসাসেবার চাহিদা তুলনামূলক বেশি। প্রতিদিন শুধু সিলেট নয়, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ এমনকি পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকেও হাজার হাজার রোগী চিকিৎসার জন্য নগরীর হাসপাতালগুলোতে আসেন। কিন্তু বিদ্যমান হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট, চিকিৎসক স্বল্পতা এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে অনেক রোগী কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। এ অবস্থায় নতুন জেলা হাসপাতালটি চালু হলে স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনগণের টাকায় নির্মিত একটি আধুনিক হাসপাতাল বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে থাকা শুধু অব্যবস্থাপনাই নয়, এটি জনগণের প্রতি অবিচারও। তারা আশা করছেন, এবার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার কারণে হাসপাতালটি দ্রুত চালু হবে।

সিলেট নগরীর বাসিন্দারা বলছেন, বহু বছর ধরে হাসপাতালটির বড় ভবনটি শুধু দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন তারা। কিন্তু সেখানে রোগী ভর্তি হয়নি, চিকিৎসাসেবা চালু হয়নি। অনেকেই এটিকে “অব্যবহৃত স্থাপনার প্রতীক” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাসপাতালটি নিয়ে নানা সময় সমালোচনা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাত বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণের পর সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে অনেক প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারে না। বিশেষ করে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল খাতে শুধু ভবন নির্মাণ করলেই হয় না, প্রয়োজন দক্ষ জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা। সিলেট জেলা হাসপাতালের ঘটনা সেই বাস্তবতারই একটি বড় উদাহরণ বলে মনে করছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে হাসপাতালটি দ্রুত চালু হবে এবং সিলেটবাসী আধুনিক ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা পাবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এটি হতে পারে একটি বড় স্বস্তির জায়গা।

সিলেটের স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার অবসান হবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। কারণ কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে হাসপাতালটি চালু হয়ে মানুষের সেবা নিশ্চিত হলেই কেবল এই উদ্যোগের সফলতা মিলবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

গোলাপগঞ্জে ২০ লাখ টাকা ছিনতাই, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা, গ্রেপ্তার প্রতিবেশী জাকির

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বড়লেখায় সড়ক নিরাপত্তায় ইউএনও-নিসচার মতবিনিময়

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নতুন কুঁড়ি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন জৈন্তাপুর উপজেলা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বড়লেখায় ট্রাফিক অভিযানে জব্দ বহু মোটরসাইকেল

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

গোলাপগঞ্জে ২০ লাখ টাকা ছিনতাই, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা, গ্রেপ্তার প্রতিবেশী জাকির

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বড়লেখায় সড়ক নিরাপত্তায় ইউএনও-নিসচার মতবিনিময়

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নতুন কুঁড়ি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন জৈন্তাপুর উপজেলা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বড়লেখায় ট্রাফিক অভিযানে জব্দ বহু মোটরসাইকেল

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ, ধানের দাম নিয়ে হতাশ কৃষক

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জ্বালানি সংকটে হাওরের ধান ঘরে তোলা অনিশ্চিত

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে টানা ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, সতর্কতা জারি

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ