প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সড়ক নিরাপত্তা, যানজট নিরসন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহবুবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছে জাতীয় সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বড়লেখা উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভা স্থানীয় সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও নাগরিক ভোগান্তি কমানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন সড়কে যানজট, ফুটপাত দখল, বেপরোয়া যান চলাচল এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলার অভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল। এরই প্রেক্ষাপটে নিসচা বড়লেখা শাখার পক্ষ থেকে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়। সভায় অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দ বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা শুধু প্রশাসনের একক দায়িত্ব নয়; বরং নাগরিক সচেতনতা, সামাজিক উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল শহরের বিভিন্ন এলাকায় যানজট নিরসন, অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, সড়কের পাশে শুকনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা অপসারণ, নতুন জেব্রা ক্রসিং স্থাপন, প্রয়োজনীয় রোড সাইন বসানো এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা।
নিসচা নেতৃবৃন্দ ইউএনও’র কাছে তুলে ধরেন যে বড়লেখা পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যানজট ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের কারণে দুর্ভোগে পড়ছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের চলাচলে নানা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বাজারকেন্দ্রিক এলাকায় ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের অনেক সময় সড়কের ওপর দিয়েই চলাচল করতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
এ সময় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, বড়লেখায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কমিটির মাধ্যমে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এ কাজে নিসচা বড়লেখা শাখার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় উপস্থিত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাওলাদার আজিজুল ইসলামও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মত দেন।
নিসচা বড়লেখা শাখার নেতারা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে তারা হেলমেট ব্যবহার, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নিরাপদে সড়ক পারাপার এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নিসচা বড়লেখা শাখার পৃষ্ঠপোষক আব্দুল আজিজ, সভাপতি তাহমীদ ইশাদ রিপন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মার্জানুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জমির উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক এহসান আহমদ, সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়া সম্পাদক ছাদিকুর রহমান, সমাজকল্যাণ ও সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মাহিনুর ইসলাম মাহিন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য রাহেল আহমদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনের এমন সমন্বিত উদ্যোগ বড়লেখার সড়ক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং অপরিকল্পিত যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থায় নিয়মিত মনিটরিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে অসচেতনতা, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং অব্যবস্থাপনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, পাশাপাশি জনগণের আচরণগত পরিবর্তনও নিশ্চিত করতে হবে।
বড়লেখার সাধারণ মানুষও এই ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং সামাজিক সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে শহরের যানজট, অবৈধ দখল ও ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভাটি শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং বড়লেখার সড়ক নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, আলোচনায় ওঠে আসা সমস্যাগুলোর বাস্তব সমাধানে কত দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়।


