সিলেটের সড়ক-রেল উন্নয়নে বড় পরিকল্পনার ঘোষণা

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং জনসেবামূলক বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বড় ধরনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Tarique Rahman। শনিবার দুপুরে নগরভবনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি সিলেট-ঢাকা সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, শিল্প পুনরায় চালু এবং নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

সুধী সমাবেশে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়ন প্রকল্প বিভিন্ন জটিলতার কারণে আটকে ছিল। জমি অধিগ্রহণসহ একাধিক প্রশাসনিক সমস্যার কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে সেই বাধাগুলো ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, সিলেট থেকে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতে এখনো দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়, যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সড়কপথ উন্নয়নের মাধ্যমে এই ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু সড়ক সম্প্রসারণ করলে যানবাহনের চাপ বাড়ে এবং যানজটও বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বিবেচনায় রেলপথ উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমাবেশে সিলেটের স্বাস্থ্যখাত নিয়েও কথা বলেন তিনি। পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান। পাশাপাশি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি, যার বড় অংশই নারী কর্মী হবে বলে দাবি করা হয়। এই কর্মীরা গ্রামাঞ্চলে গিয়ে পুষ্টি, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে সেগুলো বেসরকারি খাতে দিয়ে হলেও উৎপাদন সচল রাখা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সহজ হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিলেটের তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়েও সমাবেশে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, সিলেটে একটি আইটি পার্ক থাকলেও সেটি বর্তমানে পুরোপুরি কার্যকর নয়। সেটিকে দ্রুত সচল করে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিমানবন্দর থেকে নগরে আসার পথে জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা গেছে। অতিবৃষ্টির কারণে শুধু সিলেট নয়, আশপাশের অঞ্চলও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুনামগঞ্জের কৃষকরাও বন্যা ও পানিবদ্ধতার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, নগর এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এই সমস্যার সমাধানে খাল খনন ও পানি সংরক্ষণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

নগরের সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধে একটি বড় প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথাও সমাবেশে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেটে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে।

নদী ও পরিবেশ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নদীতে প্লাস্টিক বর্জ্যসহ বিভিন্ন দূষণমূলক উপাদান জমে পানি দূষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, সরকার ঘোষিত বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং শিশুদের জন্য ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্য।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এতে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, হুইপ জি কে গউছ এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।

সব মিলিয়ে সিলেটের অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যখাত ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে এই সমাবেশে একাধিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরা হয়, যা স্থানীয় রাজনৈতিক ও উন্নয়ন মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

সুরমা নদীর দুই তীরে ৪৬৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নৃসিংহ চতুর্দশীতে ইসকন সিলেটে ভক্তদের ঢল

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি সিপিবির সমাবেশে

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ইতিহাস গড়ে মাকালু জয় করলেন বাবর আলী

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট নগরভবনে সুধী সমাবেশে তারেক রহমানের যোগদান

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

সুরমা নদীর দুই তীরে ৪৬৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নৃসিংহ চতুর্দশীতে ইসকন সিলেটে ভক্তদের ঢল

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ইতিহাস গড়ে মাকালু জয় করলেন বাবর আলী

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট নগরভবনে সুধী সমাবেশে তারেক রহমানের যোগদান

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রধানমন্ত্রীর সামনে অভিযোগ তুললেন আরিফুল হক

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে ২৩২ কোটি টাকার কূপ খনন প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠান

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে তারেক রহমানের দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘিরে আলোচনা

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ