প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটে একটি সুধী সমাবেশে দেশের স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প, অতীত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক বৈষম্য নিয়ে তীব্র বক্তব্য ও অভিযোগ তুলে ধরেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি ঘরানার রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত Ariful Haque Choudhury। শনিবার দুপুরে নগর ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি কথিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা Tarique Rahman-এর উপস্থিতিতে এসব বক্তব্য দেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি মেয়র থাকাকালীন সময়ে নানা ধরনের প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি সিটি করপোরেশনের মেয়র থাকাকালে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন, সেগুলোর অনেকগুলোই পরবর্তী সময়ে অনুমোদন বা বাস্তবায়নের সুযোগ পায়নি।
তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানি শোধনাগারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দাখিল করা হলেও সেগুলো রাজনৈতিক কারণে থমকে যায় বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে সিলেট নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের জন্য যে প্রকল্পগুলো তিনি প্রস্তাব করেছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আরিফুল হক চৌধুরী আরও দাবি করেন, সিলেটের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও সেটি আটকে দেওয়া হয় এবং বিশ্বব্যাংক সমর্থিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তার ভাষায়, রাজনৈতিক ভিন্নতার কারণে এসব উন্নয়ন উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যা নগরের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি সিলেটের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে একটি বড় প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লাক্কাতুরা এলাকা থেকে ছড়া খননের মাধ্যমে সুরমা নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা গেলে নগরের অন্তত অর্ধশতাধিক এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে পারে। তার মতে, এটি বাস্তবায়ন করা হলে নগর ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে সিলেটের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও তিনি কথা বলেন। তিনি জানান, নগরের সম্প্রসারিত এলাকায় সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। তার মতে, নগরায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। ওই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি নিয়েও অনুষ্ঠানে কথা বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এই ধরনের বড় প্রকল্প যদি সরকারি অর্থায়নে দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে বিদেশি ফান্ডের ওপর নির্ভর করলে সময় আরও দীর্ঘায়িত হবে।
তার মতে, দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকারি অর্থায়নেই দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত। তিনি আরও বলেন, সিলেট নগরের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক জটিলতার বাইরে গিয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সুধী সমাবেশে দেওয়া তার বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যদিও তিনি সরাসরি কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করেননি, তবে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সিলেটের উন্নয়ন পিছিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রোতা ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য সিলেটের উন্নয়ন ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অতীতের প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেগুলোর কার্যকারণ বিশ্লেষণ আরও গভীর হওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে সব ক্ষেত্রে এককভাবে রাজনৈতিক কারণকে দায়ী করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা, বাজেট সংকট এবং নীতিগত পরিবর্তনও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলে।
এদিকে Tarique Rahman-কে ঘিরে এই ধরনের অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং তাকে কেন্দ্র করে আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিলেট নগরের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক অবকাঠামো সমস্যায় ভুগছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। ফলে বড় আকারের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে যেকোনো আলোচনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আশা ও প্রত্যাশা তৈরি করে। তবে বাস্তবায়নের গতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নও থেকে যায়।
সব মিলিয়ে সিলেটের এই সুধী সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং উন্নয়নমূলক নানা দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সিলেটের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধানের জন্য রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সময়ের সন্ধান অনলাইন পাঠকদের কাছে নিরপেক্ষ ও যাচাইভিত্তিক সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার নীতিতে অটল রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এমন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দায়িত্বশীল প্রতিবেদন প্রকাশ অব্যাহত রাখবে।


