প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
জাতীয় সংসদের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী অঙ্গনে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যেকোনো পেশাজীবীর জন্যই এক অনন্য অর্জন। আর সেই সুযোগ যদি আসে একজন তরুণ সাংবাদিকের কাছে, তাহলে তা নিঃসন্দেহে হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সিলেটের তরুণ সাংবাদিক মো. আশরাফ আহমেদ সম্প্রতি এমনই এক সুযোগ পেয়েছেন, যা তার পেশাগত জীবনের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের সাংবাদিক সমাজের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক অফিসিয়াল চিঠির মাধ্যমে তাকে জাতীয় সংসদে প্রবেশ এবং একটি বিশেষ বৈঠকে অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদান করা হয়। এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে সংসদ ভবনের নির্ধারিত একটি কক্ষে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
উক্ত বৈঠকে দেশের প্রতিনিধি হিসেবে আশরাফ আহমেদ অংশগ্রহণ করেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়া ও চীনের প্রতিনিধিরাও। আন্তর্জাতিক পরিসরের এমন একটি বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া একজন তরুণ সাংবাদিকের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়েই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রও আরও প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আশরাফ আহমেদ পেশাগতভাবে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত এবং সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের একজন সক্রিয় সদস্য। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার সন্তান হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যেই পরিচিত মুখ। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং তার জন্মস্থান এবং কর্মক্ষেত্র—উভয় জায়গার জন্যই গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সহকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সুযোগ এসেছে তার কাছে। তারা মনে করেন, একজন তরুণ সাংবাদিক হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ করা ভবিষ্যতে তার পেশাগত পথচলাকে আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে এটি অন্য তরুণ সাংবাদিকদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিলেটের সাংবাদিক মহলেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, জাতীয় পর্যায়ে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাওয়া সময়ের দাবি ছিল, এবং আশরাফ আহমেদের এই অংশগ্রহণ সেই ধারার একটি সূচনা হতে পারে। এটি প্রমাণ করে যে, মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকরাও তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন এবং গণমাধ্যমের প্রসারের কারণে সাংবাদিকতার পরিসর অনেক বিস্তৃত হয়েছে। ফলে স্থানীয় পর্যায় থেকে উঠে আসা সাংবাদিকরাও এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারছেন। এই প্রেক্ষাপটে আশরাফ আহমেদের সংসদে প্রবেশ এবং বৈঠকে অংশগ্রহণ একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এছাড়া, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আয়োজিত বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ায় তিনি সরাসরি নীতিনির্ধারণী আলোচনার পরিবেশ পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন। এতে করে ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আরও গভীর ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করতে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আশরাফ আহমেদের এই অর্জনকে ঘিরে তার পরিবার, সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তার ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেছেন।
সর্বোপরি, জাতীয় সংসদে প্রবেশাধিকার পাওয়া এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করা একজন তরুণ সাংবাদিকের জন্য শুধু একটি অর্জন নয়, বরং এটি একটি দায়িত্বও বটে। এই অভিজ্ঞতা তাকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন সাংবাদিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে দেশের তরুণরা যেকোনো ক্ষেত্রেই নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম। আশরাফ আহমেদের এই পদচারণা ভবিষ্যতে আরও অনেক তরুণ সাংবাদিককে অনুপ্রাণিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


