বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল বা চলাচল ব্যাহত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৭৬টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে এসব ফ্লাইটের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি ও পরিচালনাগত বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ট্রানজিটের মাধ্যমে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক যাত্রীদের ওপরও।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার, ইন্ডিগো, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, ফ্লাইদুবাই, সালামএয়ার ও এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট। এ ছাড়া ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইটও বাতিলের তালিকায় রয়েছে। ফলে সরাসরি সৌদি আরব যাত্রার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েছেন।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল বা স্থগিত হওয়া ৭৬টি সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৩টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি, রিয়াদ এয়ারের ১৩টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি, ছুটিতে দেশে আসতে ইচ্ছুক কর্মী, কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রী এবং জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণের পরিকল্পনাকারীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। যাঁদের নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা, তাঁদের জন্য ভ্রমণসূচি পরিবর্তন বিশেষ উদ্বেগের কারণ হতে পারে। একইভাবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে কিংবা জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে যাত্রা করতে চাওয়া ব্যক্তিদেরও নতুন করে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে।
তবে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সব যাত্রী একই সময়ে বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন, এমন তথ্য নিশ্চিত নয়। যাত্রীদের কেউ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন, কেউ নতুন টিকিট বা বিকল্প ফ্লাইটের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, আবার কারও যাত্রার সময় পুনর্নির্ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে। যাত্রীদের প্রকৃত অবস্থান ও পুনর্ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট ফ্লাইট চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল বা স্থগিত হওয়া ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ভারতের ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালামএয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।
এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের অনেকেরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে রিয়াদ বা দাম্মামে পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধের কারণে পরবর্তী যাত্রা ব্যাহত হওয়ায় ঢাকা থেকে তাঁদের নির্ধারিত ফ্লাইটে পরিবহন করা সম্ভব হয়নি।
ট্রানজিট যাত্রায় একটি ফ্লাইট বাতিল হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইট, টিকিটের শর্ত এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর সময়সূচি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে একই টিকিটে একাধিক ফ্লাইটের মাধ্যমে ভ্রমণকারী যাত্রীদের ক্ষেত্রে নতুন সূচি নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দেয়। ফলে যাত্রা পুনর্নির্ধারণ, বিকল্প রুট খোঁজা এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংযোগ রুটে।
এর আগে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ১৪৬টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছিল এবং ২২ হাজার ২৩১ জন যাত্রী প্রভাবিত হয়েছিলেন। বুধবারের হালনাগাদ হিসাবে ফ্লাইটের সংখ্যা বেড়ে ১৫৩ এবং প্রভাবিত যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে ২২ হাজার ৬৩৬ হয়েছে। অর্থাৎ আগের হিসাবের তুলনায় ফ্লাইটের সংখ্যা সাতটি এবং যাত্রীর সংখ্যা ৪০৫ জন বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা, যাত্রীদের ভ্রমণসূচি এবং বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সময়সীমা পাওয়া যায়নি।
ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য পাওয়া। টিকিটের সময়সূচি পরিবর্তন, বিকল্প ফ্লাইট, রিফান্ড কিংবা পুনরায় বুকিংয়ের নিয়ম এয়ারলাইনসভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, অনুমোদিত টিকিট বিক্রয়কেন্দ্র বা গ্রাহকসেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে সৌদি আরবগামী প্রবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তনের তথ্য দ্রুত জানা জরুরি। কারণ, অনেকের কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ, ছুটির মেয়াদ কিংবা পারিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে যাত্রার সময় জড়িত থাকে। সময়মতো তথ্য পাওয়া গেলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত বা অপেক্ষার ভোগান্তি কমানো সম্ভব হতে পারে।
এ ছাড়া যাঁদের ট্রানজিটের মাধ্যমে ভ্রমণের কথা, তাঁদের পুরো যাত্রাপথের সব ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করা উচিত। শুধু ঢাকা থেকে প্রথম ফ্লাইটের সময়সূচি ঠিক আছে কি না, তা দেখলেই যথেষ্ট নয়; পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইট চালু রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বেবিচকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরের বিধিনিষেধের প্রভাবে মোট ১৫৩টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এতে প্রভাবিত হয়েছেন ২২ হাজার ৬৩৬ জন যাত্রী। পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইটের সময়সূচি ও পরিচালনাগত সিদ্ধান্তেও পরিবর্তন আসতে পারে।
ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যাত্রীদের কাছে সময়মতো তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং টিকিট পুনর্ব্যবস্থাপনার নিয়ম স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া এবং ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার ওপরই পরবর্তী সময়ে যাত্রা পরিস্থিতির উন্নতি অনেকাংশে নির্ভর করছে। আপাতত সৌদি আরবগামী ও ট্রানজিট যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ফ্লাইটের তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


