জাফলংয়ে গভীর রাতে অবৈধ বালু উত্তোলনে কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনসমৃদ্ধ জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন ঠেকাতে গভীর রাতে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও টাস্কফোর্স। অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে একজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে আটক হওয়া এক নাবালককে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে অংশ নেয় উপজেলা প্রশাসন, গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাফলংয়ের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

অভিযান চলাকালে জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় শাহ আলম নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত শাহ আলম সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

এ সময় আরও একজনকে আটক করা হলেও তদন্তে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় প্রচলিত আইন অনুসরণ করে তাকে মুচলেকা গ্রহণের মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নাবালকদের ক্ষেত্রে আইনগত বিধান অনুসরণ করে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া হোসেন। সার্বিক সহযোগিতা করেন সংগ্রাম বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার শহিদুল ইসলাম, গোয়াইনঘাট থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রাজীব রায়সহ পুলিশের সদস্যরা এবং বিজিবির সদস্যরা। প্রশাসনের সমন্বিত এই অভিযানে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার অংশগ্রহণ স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া হোসেন বলেন, জাফলং জিরো পয়েন্ট দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন এলাকার অন্যতম। এই অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা এবং সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যারা অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি করছে কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নিয়মিত টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জাফলং দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলের স্বচ্ছ জলধারা, পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পাথরসমৃদ্ধ নদী প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটককে আকৃষ্ট করে। তবে একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়, জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নদীতীর ভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি পর্যটন এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের ফলে অবৈধ উত্তোলন অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এলেও কিছু অসাধু চক্র রাতের অন্ধকারে এখনও বালু ও পাথর উত্তোলনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে শুধু অভিযান নয়, গোয়েন্দা নজরদারি, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ উত্তোলনের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক লাভ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেক বেশি। নদীর তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে বন্যা, নদীভাঙন এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে, যার ক্ষতিকর প্রভাব স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা এবং পর্যটন শিল্পের ওপরও পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করেন, জাফলংয়ের মতো সংরক্ষিত ও সংবেদনশীল এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অবৈধ উত্তোলনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাফলংসহ গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন অমান্য করে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

জাফলংয়ের মতো পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান একদিকে যেমন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

মৌলভীবাজারে বাথরুমে বস্তাবন্দি লাশ, রহস্যে ঘেরা ব্যবসায়ীর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাদুকাটা বালু লুট মামলায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রবাসে একের পর এক মৃত্যু, শোকে ভাসছে সিলেটের পরিবার

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটের ঐতিহ্যে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

১০ দিনেও সিলেটে যোগ দেননি নতুন ডিসি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

জাদুকাটা বালু লুট মামলায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রবাসে একের পর এক মৃত্যু, শোকে ভাসছে সিলেটের পরিবার

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

১০ দিনেও সিলেটে যোগ দেননি নতুন ডিসি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

অক্টোবরে শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রস্তুতি চূড়ান্ত

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ভারী বর্ষণে বন্যা আতঙ্ক: সতর্কতায় সিলেট ও চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৬ জুলাই  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মানবাধিকার রক্ষায় হাসনাইন আব্দুল করিম খানকে সংবর্ধনা

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ