প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরদিন রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে নিখোঁজ তরুণীর বাবা থানায় সরাসরি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তোফাজ্জুল হক বাপন তার মেয়েকে নিয়ে গেছেন এবং এরপর থেকে মেয়ের কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না।
অভিযোগে থাকা তরুণীর বয়স ২০ বছর। তিনি শাল্লা উপজেলা সদরের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের এক কৃষকের মেয়ে। অন্যদিকে অভিযুক্ত তোফাজ্জুল হক বাপন (২৮) উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বিরন মিয়ার ছেলে। বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন এবং তরুণীকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল জানিয়েছেন, তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে জিডি করা হয়েছিল। পরে তার বাবা থানায় এসে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং তরুণীকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তরুণীর অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে অভিযুক্ত বাপনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং অভিযোগের প্রকৃতি ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তোফাজ্জুল হক বাপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা অপরাধ প্রমাণিত হয় না; তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
ঘটনাটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলাদা আলোচনা তৈরি হয়েছে। শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক হাসান মুন্না জানিয়েছেন, বাপনের চলাফেরা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল। তার দাবি, প্রায় এক বছর আগে বাপনকে মৌখিকভাবে সংগঠনের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে তরুণীকে অপহরণের অভিযোগের বিষয়টি জানার পর জেলা ছাত্রদলের সভাপতিকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার কথাও জানিয়েছেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. তারেক মিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, বাপন দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন না এবং তাকে আগেই মৌখিকভাবে সংগঠন থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। তিনি জানান, বাপনের বিরুদ্ধে তরুণীকে অপহরণের অভিযোগের বিষয়টি জানার পর সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়ভাবে তরুণী ও বাপনের মধ্যে আগে থেকে সম্পর্ক ছিল—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে বলে দলীয় নেতাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন। তবে এই সম্পর্কের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে করা অপহরণের অভিযোগের সঙ্গে ওই সম্পর্কের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার বিষয়।
ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এখন তরুণীর সন্ধান পাওয়া এবং তার অবস্থান নিশ্চিত করা। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তারা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। একটি পরিবারের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক কোনো সদস্যের হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিকভাবেই গভীর উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না থাকলে পরিবারের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়।
অন্যদিকে, অভিযোগের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় যুক্ত থাকায় তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও স্থানীয়ভাবে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল তদন্তের মাধ্যমে তরুণী কোথায় আছেন, কীভাবে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন এবং অভিযোগে বর্ণিত ঘটনার প্রকৃত কারণ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পুলিশের প্রধান কাজ হিসেবে সামনে রয়েছে তরুণীকে নিরাপদে উদ্ধার করা এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া এবং ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
এ ধরনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য ছড়িয়ে পড়লে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ভুক্তভোগী তরুণীর পরিচয়, পারিবারিক অবস্থা বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অনুমানভিত্তিক তথ্য প্রকাশ তার জন্য আরও সামাজিক চাপ ও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দায়িত্বশীলভাবে তথ্য উপস্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের সুযোগ রাখা জরুরি।
শাল্লার এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো, তরুণীর বাবা থানায় অভিযোগ করেছেন, এর আগে একটি জিডি করা হয়েছিল এবং পুলিশ তাকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত বাপনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। অভিযোগের বিপরীতে বাপনের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র পেতে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
তরুণীকে দ্রুত খুঁজে বের করে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। আবার তদন্তে ভিন্ন কোনো তথ্য উঠে এলে সেটিও যথাযথভাবে সামনে আসবে। সব মিলিয়ে, শাল্লার এই ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


