প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
হবিগঞ্জের ধুলিয়াখাল-মিরপুর আঞ্চলিক সড়কে মোটরসাইকেল ও টমটম ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে বিপ্লব দেব (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সড়কের সুঘর সুপার ব্রিকফিল্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বিপ্লব দেব বাহুবল উপজেলার লামাতাসি ইউনিয়নের মোদাহারবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের সমির দেবের ছেলে। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বিপ্লব দেব মোটরসাইকেলযোগে হবিগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। ধুলিয়াখাল-মিরপুর আঞ্চলিক সড়ক ধরে যাওয়ার সময় তিনি সুঘর সুপার ব্রিকফিল্ডের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি টমটম ইজিবাইকের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের সময় মোটরসাইকেলটি সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে এবং বিপ্লব গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা আহত যুবককে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজন ও পরিচিতজনেরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে দুর্ঘটনার পর টমটম ইজিবাইকটির চালক বা যাত্রীদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ধুলিয়াখাল-মিরপুর আঞ্চলিক সড়কটি হবিগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপসহ নানা যানবাহনের চলাচল থাকায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
বিশেষ করে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি, ওভারটেকিং, বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের অবস্থান সম্পর্কে অসতর্কতা এবং চালকদের নিয়ম না মানার কারণে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একটি মুহূর্তের অসতর্কতায় একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনও বদলে যেতে পারে। বিপ্লব দেবের মৃত্যুর ঘটনাটিও সেই বাস্তবতারই আরেকটি উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে।
৩২ বছর বয়সী বিপ্লবের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার একজন প্রিয় মানুষকে হারিয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নির্ভরতার জায়গা। কর্মক্ষম বয়সে পরিবারের একজন সদস্যকে হারানোর ফলে স্বজনদের ওপর মানসিক ও আর্থিক চাপও তৈরি হতে পারে।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি চালকদের আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালানোর সময় গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহার এবং বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে ইজিবাইকসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকদেরও সড়কের নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিপ্লব দেবের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পরিবারের সামনে কেবল শোক আর অপেক্ষা। একটি স্বাভাবিক সকাল মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে স্বজন হারানোর বেদনায়। সড়কে নিরাপত্তার বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল আচরণ ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


