প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) একটি যৌথ দল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জিয়াউর রহমান (৩৬) ও মো. রহিম আলী। তাঁদের একজনকে শাহপরান থানার আল-ইসলাহ ত্রিমুখী পয়েন্ট থেকে এবং অপরজনকে উত্তর বালুচর নতুন বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে এসআরবি। সংস্থাটির গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে পৃথক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুজনকেই সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহপরান থানার আল-ইসলাহ ত্রিমুখী পয়েন্ট থেকে জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর বালুচর নতুন বাজার এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে মো. রহিম আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নম্বর, সাজার মেয়াদ, আদালতের রায়ের তারিখ কিংবা কত দিন ধরে তাঁরা পলাতক ছিলেন—এসব বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। গ্রেপ্তারের পর সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানানো হলেও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যায়নি।
মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকলে তাঁকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের অংশ। আদালতের রায় কার্যকর করা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ ধরনের গ্রেপ্তার গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয়, মামলার নথি এবং আদালতের আদেশ যাচাই করে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও প্রয়োজন।
সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে। আল-ইসলাহ ত্রিমুখী পয়েন্ট ও উত্তর বালুচর নতুন বাজার এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তবে এই দুই গ্রেপ্তারের ভিত্তিতে নগরের সামগ্রিক অপরাধ পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা, পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মাদকসংক্রান্ত মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্ভরযোগ্য প্রমাণ, যথাযথ আইনি পদক্ষেপ এবং আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার রায় ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ধারণা করা যায়; তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সিলেটে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক ব্যক্তির গ্রেপ্তারের ঘটনায় এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার নথি যাচাই এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁদের আদালতের রায় কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হলে বিচারিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।


