প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে অ্যাম্বুলেন্স, হাইয়েস মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালায় হাইওয়ে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের চাঁনপুর এলাকায় তিনটি যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্স, সিলেটগামী একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস এবং শেরপুরগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে। এতে যানবাহনগুলোর যাত্রীরা হতাহত হন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন এবং আহতদের উদ্ধারে সহযোগিতা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে আরও একজনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় দুইজনে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সংঘর্ষের আগে যানবাহনগুলোর গতিবিধি, চালকদের ভূমিকা কিংবা কোনো গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।
নিহত দুজনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে সুহেল আহমদ হিসেবে। তাঁর বয়স ৪৭ বছর। তিনি চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার মহামায়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি হাইয়েস মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
অন্য নিহত ব্যক্তি খায়রুল ইসলাম (৪৭)। তিনি চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের পরিবারের কাছে খবর পৌঁছানো, মরদেহ হস্তান্তর এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
দূরপাল্লার যাত্রায় এমন দুর্ঘটনা একটি পরিবারের জীবনে মুহূর্তেই গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে। নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রত্যাশা নিয়ে যাত্রা শুরু করা মানুষের জন্য সড়ক দুর্ঘটনা কখনো কখনো অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের পাশাপাশি আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ ৭১-২৯৪৯। সিলেটগামী হাইয়েস মাইক্রোবাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ ১৯-৫০৫৩। অন্যদিকে শেরপুরগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির নম্বর সুনামগঞ্জ-থ ১১-৪৮৪৪। তিনটি যানবাহনের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে কোন যানবাহন প্রথমে অন্য গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর একজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এর আগে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়েছিল। দুর্ঘটনায় জড়িত তিনটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে তদন্তের অগ্রগতি, গাড়িগুলোর যান্ত্রিক অবস্থা কিংবা চালকদের কোনো অবহেলা ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে বিভিন্ন সময়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে এ অঞ্চলের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। মহাসড়কটি সিলেট বিভাগের সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স এবং ছোট যানবাহনের একসঙ্গে চলাচলের কারণে চালকদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। পাশাপাশি যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, চালকদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে চাঁনপুর এলাকায় শুক্রবারের দুর্ঘটনা সড়কের নকশা, যানবাহনের গতি, চালকের অসতর্কতা কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটেছে কি না, তা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে অনুমাননির্ভর বক্তব্যের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
সড়ক দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন রাখা জরুরি। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ও পুলিশের তৎপরতা দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে জরুরি চিকিৎসাসেবা দ্রুত নিশ্চিত করা এবং হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত করে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করাও প্রয়োজন।
শুক্রবারের দুর্ঘটনায় তিনটি যানবাহন জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এখন তদন্তের মাধ্যমে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, সংশ্লিষ্ট যানবাহনের অবস্থা যাচাই এবং আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং নিহতদের পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যাতায়াত করেন। এ পথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা শুধু পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নয়, বরং যাত্রী, চালক এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনেরও দায়িত্ব। নিয়মিত তদারকি, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ওসমানীনগরের চাঁনপুরে দুইজনের প্রাণহানির এ ঘটনা আবারও মহাসড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্য দিয়েই সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব।

