প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেট নগরকে আরও সবুজ, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বনায়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার নগরীর দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। সিউকের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নগরীর আম্বরখানা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ব্লু বার্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে পৃথকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ করেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। সিউকের নির্বাহী পরিচালক মো. সাদিউর রহিম জাদিদসহ দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’। বাংলাদেশেও ৫ অক্টোবর দিবসটি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন আবাসনের পাশাপাশি পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়ণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিলেটে সিউকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সেই বৃহত্তর নগর ভাবনার স্থানীয় উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ একটি শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে শুধু আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ যথেষ্ট নয়। খোলা জায়গা, সবুজ এলাকা, গাছপালা, হাঁটার উপযোগী পরিবেশ এবং পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নগর পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব বসতি দিবসের আলোচনাতেও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ নগর গড়ে তুলতে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ সিলেট গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে। তিনি বৃক্ষরোপণকে শুধু পরিবেশ রক্ষার কর্মসূচি হিসেবে না দেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য, নান্দনিক ও টেকসই নগর গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে সিলেটে এবার দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সিউক। ৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আবাসন ও নগরায়ণসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগর উন্নয়ন, আবাসন ও পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও রাখা হয়।

নগরায়ণের সঙ্গে সবুজায়নের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। জনসংখ্যা ও স্থাপনার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরে খোলা জায়গার ওপর চাপ বাড়ে। সড়ক, ভবন, বিপণিবিতান ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক সবুজ কমে গেলে নগরের পরিবেশের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে নগর পরিকল্পনায় গাছপালা ও সবুজ পরিসর সংরক্ষণ এবং নতুন করে সবুজ এলাকা তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সিলেটের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজ পরিবেশের জন্য পরিচিত এ অঞ্চলের নগরায়ণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নগর সম্প্রসারণের সঙ্গে নতুন আবাসিক এলাকা, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। এই পরিবর্তনের মধ্যে নগরের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে পরিকল্পিত সবুজায়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন পরিবেশসংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা। একটি চারা রোপণের পর সেটিকে পরিচর্যা ও বড় করে তোলার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে স্কুল-কলেজের আঙিনায় গাছের সংখ্যা বাড়লে শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক সবুজ ও আরামদায়ক পরিবেশও তৈরি হতে পারে।

তবে শুধু চারা রোপণ করলেই বনায়ন কর্মসূচির লক্ষ্য পূরণ হয় না। রোপণ করা গাছের পরিচর্যা, নিয়মিত পানি দেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং গাছগুলো টিকে আছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নগর এলাকায় গাছের জায়গা নিশ্চিত করা এবং নির্মাণকাজের সময় সেগুলো রক্ষা করার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হওয়া প্রয়োজন।

সিউকের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের যে পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে, সেটি বাস্তবায়িত হলে তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হবে। কোন ধরনের গাছ কোথায় লাগানো হচ্ছে, স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সেগুলোর উপযোগিতা কতটা, ভবিষ্যতে গাছগুলোর বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা করা হলে কর্মসূচির সুফল দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

বিশ্ব বসতি দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যও মূলত নগরকে শুধু মানুষের বসবাসের জায়গা হিসেবে নয়, বরং নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই পরিবেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা সামনে এনেছে। রাষ্ট্রপতির বাণীতেও পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ণকে টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিউকের চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যে সরকারের বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের সঙ্গে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে জাতীয় পর্যায়ের কোনো কর্মসূচির স্থানীয় বাস্তবায়ন নিয়ে বক্তব্য দিতে গেলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা, সময়সীমা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। সিউকের নিজস্ব কর্মসূচির ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে কোথায় কতটি গাছ লাগানো হবে, কীভাবে পরিচর্যা করা হবে এবং কত সময়ের মধ্যে এর বাস্তব ফলাফল মূল্যায়ন করা হবে—এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে নাগরিকদের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি আরও বাড়তে পারে।

সিলেটের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি নগরের জন্য সবুজায়ন তাই কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নগর ব্যবস্থাপনার অংশ হওয়ার সুযোগ রাখে। একটি চারা আজ ছোট হলেও কয়েক বছর পর সেটিই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা, সড়কের পাশ কিংবা কোনো উন্মুক্ত স্থানে ছায়া ও সবুজের পরিসর তৈরি করতে পারে। সেই অর্থে বৃক্ষরোপণের সুফল তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি।

মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণ সেই দীর্ঘমেয়াদি ভাবনারই একটি সূচনা হতে পারে। সিউকের পরিকল্পনা অনুযায়ী নগরের আরও বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সবুজায়নের পরিধি বাড়বে। তবে উদ্যোগের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে রোপণ করা গাছগুলোর টিকে থাকা, নিয়মিত পরিচর্যা এবং নগর পরিকল্পনার অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সবুজায়নকে কতটা সমন্বিত করা যায় তার ওপর।

সবুজ, নান্দনিক ও বাসযোগ্য সিলেট গড়ে তোলার প্রত্যাশা নগরবাসীর দীর্ঘদিনের। সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে নতুন ভবন ও সড়কের পাশাপাশি গাছের জন্যও জায়গা রাখতে হবে। বিশ্ব বসতি দিবসকে ঘিরে সিউকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেই প্রয়োজনীয়তার কথাই আবার সামনে এনেছে। এখন এই কর্মসূচি কতটা ধারাবাহিক ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটিই হবে মূল বিষয়।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

পরিচ্ছন্ন ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সিলেটে আত্মপ্রকাশ করল ‘জাগরণ সমাজ কল্যাণ সংস্থা’

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট নগরীর পশ্চিম পীরমহল্লায় একটি পরিচ্ছন্ন, সমৃদ্ধ,...

ষষ্ঠ শ্রেণিতে ২০২৭ থেকে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বিষয়

প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শিশুর বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীলতায় জোর

প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চুনারুঘাটে বিতর্কিত ভিডিও, এএসআই প্রত্যাহার

প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ছাতকে অভিযানে ৭৮ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার

প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

পরিচ্ছন্ন ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সিলেটে আত্মপ্রকাশ করল ‘জাগরণ সমাজ কল্যাণ সংস্থা’

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট নগরীর পশ্চিম পীরমহল্লায় একটি পরিচ্ছন্ন, সমৃদ্ধ,...

ষষ্ঠ শ্রেণিতে ২০২৭ থেকে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বিষয়

প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শিশুর বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীলতায় জোর

প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চুনারুঘাটে বিতর্কিত ভিডিও, এএসআই প্রত্যাহার

প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ছাতকে অভিযানে ৭৮ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার

প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটের টাইম টাওয়ার ভাঙা হলো, জায়গায় হবে নতুনটি

প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শ্রীমঙ্গলে ক্রিকেট একাডেমির যাত্রা, নতুন স্বপ্ন তরুণদের

প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রমজানের আগে তিন ধাপে ইউপি ভোটের পরিকল্পনা

প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ