প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের লছনা এলাকায় সাতগাঁও হাইওয়ে থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে লছনা এলাকায় আলম এশিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর অটোরিকশাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ও সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। অটোরিকশার ভেতর থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাভিদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য পরবর্তী সময়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা কাজ শুরু করেন।
নিহতদের মধ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মাজদিহি চা-বাগান এলাকার অমৃত সিংয়ের ছেলে জয় সিংয়ের পরিচয় পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার বয়স ২৩ বা ২৪ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকজনের নাম পাপ্পু নায়েক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেলেও তার পরিচয় ও বয়স সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সব সূত্রে নিশ্চিত ছিল না। তৃতীয় ব্যক্তির পরিচয়ও দুর্ঘটনার পরপরই নিশ্চিত করা যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই ঘটনাস্থল ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। স্বজনদের কাছে খবর পৌঁছানোর পর পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়াও শুরু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় হাসপাতাল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্যও পরিস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা পাওয়া গেছে। কিছু প্রতিবেদনে বাসটি অটোরিকশাটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের কথা বলা হয়েছে। ফলে দুর্ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে থাকা এক যাত্রীর বক্তব্যও একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি একটি শিক্ষা সফর শেষে ফিরছিল এবং সংঘর্ষের পর যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের তথ্য ও পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই অটোরিকশার তিন আরোহীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার পরিস্থিতি, যানবাহনের অবস্থান এবং চালকের ভূমিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই দুর্ঘটনার দায় ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এ মহাসড়ক দিয়ে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও স্থানীয় গণপরিবহন চলাচল করে। ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে বড় যানবাহন ও ছোট গণপরিবহনের পাশাপাশি চলাচলের ক্ষেত্রে গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখা এবং চালকদের সতর্কতা সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে কোনো নির্দিষ্ট দুর্ঘটনায় এসবের কোনটি প্রভাব ফেলেছে কি না, তা প্রমাণ ছাড়া বলা সমীচীন নয়। এ ঘটনায়ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
একটি সড়ক দুর্ঘটনা শুধু ঘটনাস্থলে থাকা মানুষের জীবনেই প্রভাব ফেলে না; এর অভিঘাত পৌঁছে যায় পরিবার ও স্বজনদের কাছেও। বিশেষ করে কর্মজীবী তরুণদের আকস্মিক মৃত্যু পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনে। শ্রীমঙ্গলের এই ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের জন্যও রাতের দুর্ঘটনার খবরটি নিঃসন্দেহে গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় মানুষ ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। দ্রুত আহত বা দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের এমন সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় না করে উদ্ধার ও আইনগত কার্যক্রমে সহযোগিতা করাও জরুরি।
এ ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ময়নাতদন্তের পর নিহতদের মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি তৃতীয় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের কাজও চলবে।
শ্রীমঙ্গলের লছনা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের জন্য এখন তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসবে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই এখন প্রত্যাশা।


