প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণার পর সংগঠনটির মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেলোয়ার হোসেন দিনারের নাম আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ, নতুন দায়িত্ব পাওয়ার সময় তিনি সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সময়ে দুটি সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও দিনার জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই ছাত্রদলের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন।
কেন্দ্রীয় যুবদল রোববার সিলেট জেলা ও মহানগরসহ কয়েকটি সাংগঠনিক ইউনিটের আংশিক কমিটি অনুমোদন করে। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের অনুমোদিত কমিটির তথ্য বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনেও প্রকাশিত হয়েছে। সিলেট মহানগর যুবদলের পাঁচ সদস্যের কমিটিতে মির্জা মোহাম্মদ সম্রাটকে সভাপতি এবং দেলোয়ার হোসেন দিনারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
অন্যদিকে সিলেট জেলা যুবদলের আংশিক কমিটিতে মোহাম্মদ মকসুদ আহমদকে সভাপতি এবং আবদুস সালাম টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে কয়েস আহমদ, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাশরুর রাসেল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে হাবিবুল বাশার হাবিবের নাম রয়েছে। কেন্দ্রীয় ঘোষণায় জেলা ও মহানগর উভয় কমিটিকেই পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহানগর যুবদলের নতুন কমিটিতে দিনারের সঙ্গে দায়িত্ব পেয়েছেন সিনিয়র সহসভাপতি এমদাদুল হক স্বপন, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহসিন মেহেদি প্রিন্স এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন আহমেদ। অর্থাৎ পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটির মাধ্যমে মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার একটি নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
তবে দিনারের নতুন দায়িত্ব ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তার আগের সাংগঠনিক দায়িত্ব। সিলেটটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ১৩ জুন সিলেট জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হলে দেলোয়ার হোসেন দিনারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে ছিলেন।
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর একই সময়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সাংগঠনিক দায়িত্বের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ছাত্রদল ও যুবদল একই রাজনৈতিক ধারার সহযোগী সংগঠন হলেও তাদের সাংগঠনিক কাঠামো ও দায়িত্ব আলাদা। ফলে একজন নেতার ক্ষেত্রে দুই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একই সময়ে পালন করা কতটা কার্যকর হবে—এ নিয়ে আলোচনা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
তবে দিনার নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। সিলেটটুডেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে এবং তার আগেই তিনি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। এ বিষয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের পদত্যাগের ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানান।
অর্থাৎ নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে দুই সংগঠনের পদ ধরে রাখার পরিবর্তে ছাত্রদলের দায়িত্ব ছাড়ার প্রক্রিয়ার দিকেই এগোচ্ছেন দিনার। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কমিটি ঘোষণার আগেই পদত্যাগ সম্পন্ন হলে একই ব্যক্তির হাতে দুই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকার প্রশ্নটিও আর থাকবে না।
সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আগের কমিটিগুলোর সাংগঠনিক কাঠামোর তুলনায় এবার প্রথম ধাপে সীমিতসংখ্যক নেতার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেটটুডের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুই ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সে সময় জেলা কমিটি ২৯১ সদস্যের এবং মহানগর কমিটি ৩০১ সদস্যের ছিল।
এবার কেন্দ্রীয় যুবদল আংশিক কমিটি দিয়ে সাংগঠনিক কাঠামোর সূচনা করেছে। ৩০ দিনের মধ্যে উভয় ইউনিটের ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী এক মাসে নতুন কমিটিতে কারা স্থান পাচ্ছেন, কোন পর্যায়ের নেতারা দায়িত্ব পাচ্ছেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে—এসব বিষয়ও আলোচনায় থাকবে।
দিনার জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের বিষয়ে তারা জানেন এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে সমস্যা হবে না। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত কারা কোন পদে থাকছেন, তা চূড়ান্ত নয়।
রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটি গঠন সাধারণত শুধু পদ বণ্টনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা, স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমও যুক্ত থাকে। বিশেষ করে সিলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক এলাকায় জেলা ও মহানগর যুবদলের নতুন নেতৃত্বের কার্যক্রম দলের স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন কমিটির নেতাদের সামনে তাই একদিকে সাংগঠনিক কাঠামো পূর্ণাঙ্গ করার কাজ, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে।
দিনারের ক্ষেত্রে ছাত্রদল থেকে যুবদলে দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি তার রাজনৈতিক সাংগঠনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ছাত্রদলের নেতৃত্বে থাকার পর যুবদলের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া সংগঠনের ভেতরে প্রজন্ম ও দায়িত্ব পরিবর্তনের ধারার একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে এ পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে নতুন কমিটির কার্যক্রম, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর।
এখন মূল অপেক্ষা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার দিকে। দিনার তার বক্তব্য অনুযায়ী দায়িত্ব ছাড়লে জেলা ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্ব আসবে। একই সময়ে মহানগর যুবদলের নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাকে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে হবে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে সিলেটের দুই সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণার পর দেলোয়ার হোসেন দিনারকে ঘিরে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার একটি অংশের উত্তর তিনি নিজেই দিয়েছেন—ছাত্রদলের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে। এখন সেই পদত্যাগ কবে এবং কীভাবে সম্পন্ন হয়, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব কখন আসে এবং যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কীভাবে গঠিত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।


