প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সিলেটের দুই সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক (এমএ মালিক) ও এমরান আহমদ চৌধুরী। তাদের মধ্যে এমএ মালিক সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং এমরান আহমদ চৌধুরী সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাদের সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফাতিমা আজরিন তন্বীর স্বাক্ষরিত ওই স্মারকের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। তবে মনোনয়নের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে সোমবার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সিন্ডিকেট। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আর্থিক বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই পর্ষদের ভূমিকা রয়েছে। ফলে সিন্ডিকেটে নতুন সদস্য হিসেবে দুই সংসদ সদস্যের অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, যিনি এমএ মালিক নামে পরিচিত, এবং সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী—দুজনই সিলেট অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি। তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা অবকাঠামো এবং উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও সংসদীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে দায়িত্ব পাওয়ার ফলে এসব বিষয়ে তাদের সম্পৃক্ততার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সিলেট অঞ্চলে চিকিৎসাশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উচ্চতর অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং মেডিকেল শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নত করা। এ অঞ্চলের মেডিকেল কলেজ, চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রমের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকর ভূমিকা সিলেট বিভাগের বৃহত্তর স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব রাখার বিধান রয়েছে। সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এবার সিলেটের দুটি সংসদীয় আসনের প্রতিনিধিকে সিন্ডিকেটে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগের একটি দিক সামনে এসেছে।
তবে দুই সংসদ সদস্য সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে কী ধরনের দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাদের মেয়াদ বা নির্দিষ্ট দায়িত্বের পরিধি কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করবে। মনোনয়ন পাওয়ার পর সিন্ডিকেটের বৈঠকে তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সিলেট অঞ্চলে চিকিৎসাশিক্ষার বিস্তার এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। বিভাগে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল থাকলেও উচ্চতর চিকিৎসাশিক্ষা, বিশেষায়িত চিকিৎসা, গবেষণা ও দক্ষ জনবল তৈরির ক্ষেত্রে আরও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে এই প্রত্যাশার জায়গাটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সিন্ডিকেটে জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ফলে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাশিক্ষার বাস্তব সমস্যাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের ভূমিকার কার্যকারিতা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের অংশগ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণের ওপর।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি একাডেমিক কাউন্সিল, উপাচার্য এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাঠামোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই শুধু সিন্ডিকেটে নতুন সদস্য মনোনয়নকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান কাঠামোর একটি অংশে নতুন দুই সদস্যের অন্তর্ভুক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
এমএ মালিক ও এমরান আহমদ চৌধুরীর মনোনয়ন নিয়ে সিলেটের রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারা কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের দায়িত্বের সঙ্গে সংসদীয় দায়িত্বের সমন্বয় করেন, সেদিকেও নজর থাকবে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের চিকিৎসাশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সমস্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, সেটি ভবিষ্যতে তাদের ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ও প্রয়োজন হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা, শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ, অবকাঠামোগত চাহিদা এবং স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সিন্ডিকেটে আলোচনা হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার বড় একটি অংশ হলো মানসম্মত চিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি। একই সঙ্গে সিলেট বিভাগের রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরির ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এসব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নই শেষ পর্যন্ত এর কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের স্মারক অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর দুই সংসদ সদস্যের মনোনয়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। পরে সোমবার এ তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের কার্যক্রমে তাদের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী বৈঠকগুলোতে তাদের ভূমিকা কী হয়, সেদিকেই থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের নজর।
দুই সংসদ সদস্যের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্ষদে নতুন দুই প্রতিনিধি যুক্ত হলেন। এই মনোনয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হলেও সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাশিক্ষার বাস্তব প্রয়োজনগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কতটা প্রতিফলিত হয়, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্তের ওপর।


