প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. মিজানুর রহমান। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
রোববার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পার-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম এতে স্বাক্ষর করেন। প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের দুই কর্মকর্তাকে তাদের নামের পাশে উল্লেখ করা নতুন পদ ও কর্মস্থলে বদলিপূর্বক পদায়নের কথা জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বর্তমান সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) ডা. মো. নোমান মিয়াকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. মিজানুর রহমানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি স্বাস্থ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ হলো সিভিল সার্জন। জেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের সমন্বয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম তদারকিতে এ পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্বাস্থ্য খাতে নতুন দায়িত্ব পাওয়া ডা. মিজানুর রহমানের ওপরও জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বর্তাবে।
সিলেটে আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ডা. মিজানুর রহমান হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এখন নতুন দায়িত্বে তাকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি জেলার সামগ্রিক স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর কার্যক্রম, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালন, রোগীদের সেবার মান এবং বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির বাস্তবায়ন তার দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
প্রজ্ঞাপনে কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের পাশাপাশি নতুন কর্মস্থলে যোগদানের সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, বদলি ও পদায়ন করা কর্মকর্তাদের আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করলে ২৭ আগস্ট থেকে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য করা হবে।
স্বাস্থ্য প্রশাসনে নিয়মিত বদলি ও পদায়নের অংশ হিসেবে এমন পরিবর্তন হয়ে থাকে। তবে জেলার সিভিল সার্জন পদটি স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নতুন দায়িত্বে কে আসছেন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ থাকে। ডা. মিজানুর রহমানের পদায়নের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্বাস্থ্য প্রশাসনে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এই জেলায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। জেলার সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর স্থানীয় জনগণের বড় একটি অংশ নির্ভরশীল। ফলে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একজন সিভিল সার্জনের দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জেলার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, সরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বয় করাও এ দায়িত্বের অংশ। ডেঙ্গু, মৌসুমি রোগ, সংক্রামক রোগের বিস্তার কিংবা কোনো দুর্যোগের সময় জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনায় সিভিল সার্জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এ ছাড়া মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা, জনসচেতনতা এবং বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নেও জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের সমন্বয় প্রয়োজন হয়। এসব কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হয় সিভিল সার্জন কার্যালয়কে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ডা. মো. মিজানুর রহমানকে এসব কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। একই সঙ্গে জেলার সরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাও তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হবে। বিশেষ করে চিকিৎসক সংকট, হাসপাতালের অবকাঠামো, ওষুধ সরবরাহ, রোগীর চাপ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো জেলা পর্যায়ে নিয়মিত নজরদারির প্রয়োজন হয়।
অন্যদিকে, বর্তমান সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) ডা. মো. নোমান মিয়াকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওএসডি করার সিদ্ধান্তও একই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। তার পরবর্তী দায়িত্ব ও কর্মস্থল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রশাসনের একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও এর প্রভাব পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে। নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণের পর তার কাজের ধরন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে।
সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডা. মিজানুর রহমানের নতুন কর্মস্থল হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি স্বাস্থ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ তার পেশাগত দায়িত্বের নতুন পরিসর তৈরি করবে।
জেলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকবে, নতুন সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল হবে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের হয়রানি কমানো, চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানো এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়ম-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাধারণ মানুষ অনেক সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পর্যাপ্ত ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যে স্বাস্থ্য প্রশাসনের সমন্বয় ও তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দায়িত্বে ডা. মিজানুর রহমানকে তাই প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যাগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা রয়েছে। যোগদানের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রমে নতুন করে প্রশাসনিক সমন্বয় শুরু হবে। জেলার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলমান কার্যক্রম, জনবল পরিস্থিতি এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে ধারণা নিয়ে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন নতুন সিভিল সার্জন।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা তাই মানুষের জীবন ও কল্যাণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন সিভিল সার্জনের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর সমন্বয় তৈরি হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
ডা. মো. মিজানুর রহমানের নতুন দায়িত্বে মূল লক্ষ্য হবে জেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল, জনবান্ধব ও কার্যকর করা। তার প্রশাসনিক নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্বাস্থ্য খাতে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে নতুন দায়িত্বকে ঘিরে জেলার মানুষের প্রত্যাশা, চিকিৎসাসেবা যেন আরও সহজলভ্য হয় এবং সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা পান, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


