সিকৃবিতে প্রশাসনিক অনিয়ম ও দ্বন্দ্বের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) প্রশাসন ঘিরে নানা অনিয়ম, দলীয়করণ, নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বদলি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, সবকিছু নিয়ম অনুযায়ীই পরিচালিত হচ্ছে।

২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ করেন একাধিক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন নিয়োগ বোর্ড গঠন করেন এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ দেন, যেখানে যোগ্যতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় একাডেমিক যোগ্যতা ছাড়াই নিয়োগ বা পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন কয়েকজন সিন্ডিকেট সদস্য। একইসঙ্গে প্রশাসনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত আট মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত সম্পর্ককে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রশাসনের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলেও অনেকে মনে করছেন।

শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একাংশের অভিযোগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ শোকজ, বরখাস্ত কিংবা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৬ সালের শুরুতে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতা পূরণ না করেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে একই পরিবারের সদস্য বা স্থানীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগের অভিযোগও উঠেছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা উপেক্ষা করে অ্যাডহক ভিত্তিতে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, জরুরি প্রশাসনিক প্রয়োজনেই এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক পদে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তার দাবি, প্রশাসনিক ৫০টির বেশি পদের মধ্যে একটি বড় অংশে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অন্যদিকে কিছু শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, মতের অমিল বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কয়েকজন শিক্ষককে কারণ দর্শানো ছাড়াই বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একজন সাবেক রেজিস্ট্রার ও কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রক্রিয়াগত তদন্ত ছাড়াই চাপ সৃষ্টি করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হচ্ছে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক আলিমুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ম ও নীতিমালার মধ্যেই নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা যোগ্য এবং অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরি প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু অ্যাডহক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। যারা অভিযোগ করছেন, তারা হয়তো ব্যক্তিগত স্বার্থে অসন্তুষ্ট।”

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। ক্যাফেটেরিয়া সংস্কার, আসবাবপত্র ক্রয় এবং অন্যান্য উন্নয়ন কাজে অতিরিক্ত ব্যয় বা নিম্নমানের সামগ্রী কেনার অভিযোগ তুলেছেন কিছু শিক্ষক। যদিও প্রশাসন এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেখানে দলীয় প্রভাব বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পেলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র, এখানে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ও অনিয়ম দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে সিকৃবির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। অভিযোগ-অস্বীকারের এই দ্বন্দ্বের সমাধান কবে হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

ছাতকে দুই গ্রামে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র জাউয়া বাজার

প্রকাশ: ০৯ মে  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন বৃষ্টি

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

গোলাপগঞ্জ হাসপাতালে নোংরা পরিবেশে রোগীদের দুর্ভোগ

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হাওরে ডুবে সোনালি ফসল, হাহাকার কৃষকের

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে বিএনপি নেতার ৫০ লাখ টাকা ছিনতাই

প্রকাশ: ০৯ মে  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

ছাতকে দুই গ্রামে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র জাউয়া বাজার

প্রকাশ: ০৯ মে  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন বৃষ্টি

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

গোলাপগঞ্জ হাসপাতালে নোংরা পরিবেশে রোগীদের দুর্ভোগ

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হাওরে ডুবে সোনালি ফসল, হাহাকার কৃষকের

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে বিএনপি নেতার ৫০ লাখ টাকা ছিনতাই

প্রকাশ: ০৯ মে  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

গাজীপুরে প্রবাসীর পরিবারে নৃশংস হত্যাকাণ্ড

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ছাত্র ইউনিয়ন সিলেটে ৩৭তম জেলা সম্মেলন আজ

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

লন্ডনে চিকিৎসা ফলোআপে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ