প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটে দিনদুপুরে বিএনপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতার কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার এলাকার পারাইরচক এলাকায় শুক্রবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাসিম হোসাইন। তিনি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশের একজন ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার পরপরই তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নাসিম হোসাইনের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় বিকাশের বিভিন্ন এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অর্থ বিতরণের জন্য তিনি প্রাইভেটকারে করে প্রায় ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহকারীও ছিলেন।
তিনি জানান, গাড়িটি পারাইরচক এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে। এরপর তারা গাড়ির গতিরোধ করে হামলা চালায় এবং গাড়ির কাঁচ ভেঙে ভেতরে থাকা লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। অস্ত্রের মুখে তারা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার আকস্মিকতায় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই মোগলাবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এসএমপির মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “একটি বিকাশ এজেন্টের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।”
এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দিনের আলোতে এত বড় অঙ্কের টাকা ছিনতাই হওয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, প্রধান সড়কে এমন ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
স্থানীয়দের মতে, পারাইরচক ও আশপাশের এলাকায় মাঝে মাঝে ছিনতাই ও ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে এত বড় অঙ্কের অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনা এবারই প্রথম বলে তারা উল্লেখ করেন।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের শনাক্তে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা এই ঘটনাকে পরিকল্পিত ছিনতাই হিসেবে অভিহিত করে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি শুধু অর্থ ছিনতাই নয়, এর পেছনে আরও কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয় বলেও তারা উল্লেখ করেছে।
এই ঘটনার পর সিলেট নগরী ও দক্ষিণ সুরমা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় অঙ্কের নগদ অর্থ পরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এই ধরনের ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তারা মনে করেন, আর্থিক লেনদেন ডিজিটালাইজড হলেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে নগদ অর্থ পরিবহনের ওপর নির্ভরতা রয়ে গেছে, যা অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে।
এদিকে, ভুক্তভোগী নাসিম হোসাইন দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি ছিনতাই নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত একটি অপরাধমূলক ঘটনা।
ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি রহস্যে ঘেরা রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশাবাদী, খুব শিগগিরই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।


