প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের ৩৭তম সম্মেলন আজ শনিবার (৯ মে) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংগঠনের সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে এই সম্মেলনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিকাল ৩টায় সিলেট নগরীর শারদা স্মৃতি ভবনে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সিলেট জেলার সাবেক সভাপতি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্য। তার উপস্থিতি সম্মেলনকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
ছাত্র ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই দেশের প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে পরিচিত। শিক্ষা, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অধিকার আন্দোলনের বিভিন্ন ইস্যুতে সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে। সিলেট জেলা সংসদের এই সম্মেলনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্মেলনে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতিও রয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাবেক সভাপতি মানবেন্দ্র দেব অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। তাদের উপস্থিতি সম্মেলনের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে বলে সংগঠনের নেতারা মনে করছেন।
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করবেন ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের সভাপতি দীপঙ্কর সরকার। তিনি সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম, সাংগঠনিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান প্রদ্যুৎ দাস এবং আহ্বায়ক সন্দীপ দাস জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রস্তুতির মাধ্যমে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিনিধি, কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সম্মেলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ধরনের জেলা সম্মেলন সংগঠনের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনটি নতুন চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের সুযোগ পায়।
সিলেট অঞ্চলে ছাত্র ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সাংগঠনিক ইতিহাস রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের অধিকার, আবাসন সংকট, শিক্ষা ব্যয় এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে সংগঠনটি বিভিন্ন সময় আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করেছে। ফলে এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক আলোচনা দেখা যাচ্ছে।
সম্মেলন ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান সময়ে ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই সম্মেলনের মাধ্যমে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র সংগঠনগুলোর সম্মেলন শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। অনেক জাতীয় পর্যায়ের নেতা ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমেই তাদের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছেন।
সম্মেলনে সংগঠনের বিগত কার্যক্রম পর্যালোচনা, সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনও এই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে থাকবে।
আয়োজকদের মতে, বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ছাত্র ইউনিয়নের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্মেলনকে ঘিরে সিলেট নগরীতে সাংগঠনিক পরিবেশ ইতিমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন। সংগঠনের নেতারা আশা করছেন, এই সম্মেলন নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের ৩৭তম সম্মেলনকে ঘিরে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


