মৌলভীবাজারের শ্রেষ্ঠ ওসি বড়লেখার মনিরুজ্জামান

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

পুলিশিং শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, এটি মানুষের আস্থা অর্জনেরও একটি বড় দায়িত্ব। অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই একজন পুলিশ কর্মকর্তার সাফল্য মূল্যায়িত হয়। সেই বিবেচনায় পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও জনবান্ধব কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান খান।

গত এপ্রিল মাসের সামগ্রিক কর্মতৎপরতা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পরোয়ানা তামিল এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাঁকে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে মনোনীত করা হয়। সোমবার (৪ মে) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে আয়োজিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের সদর দপ্তরের নির্ধারিত ইউনিফর্ম ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন থানার কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর, মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তির গতি, মাদকবিরোধী অভিযান, অপরাধ দমন এবং সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব সূচকে বড়লেখা থানার কার্যক্রম ইতিবাচক অগ্রগতি দেখায়। ফলে সার্বিক মূল্যায়নে এগিয়ে থাকায় ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর বড়লেখা থানায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মনিরুজ্জামান খান থানার কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে উদ্যোগী হন। সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় বড়লেখায় মাদক চোরাচালান, অবৈধ বাণিজ্য, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সবসময়ই বাড়তি চ্যালেঞ্জ থাকে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করেন।

বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানে বড়লেখা থানার সক্রিয়তা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ায় এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শুধু অপরাধ দমন নয়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমাতেও কাজ করেছেন ওসি মনিরুজ্জামান খান। থানায় সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ, অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয়ের কারণে থানার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। অনেকে বলছেন, জনবান্ধব পুলিশিংয়ের কারণে বড়লেখা থানায় সাধারণ মানুষ এখন আগের তুলনায় সহজে নিজেদের সমস্যা নিয়ে যেতে পারছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের মতে, বড়লেখায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা রয়েছে। বিশেষ করে রাতের টহল বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির কারণে মানুষ স্বস্তি অনুভব করছেন। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় আগে যেসব অপরাধ নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল, সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলেও তারা মনে করেন।

পুরস্কার গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, যেকোনো স্বীকৃতি দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি এই অর্জনের কৃতিত্ব বড়লেখা থানার সকল পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি থানা শুধু একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হয় না; প্রতিটি সদস্যের আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়েই ভালো ফল অর্জন সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে বড়লেখা থানা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

আইন-শৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধুমাত্র কঠোর আইন প্রয়োগ নয়, জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুললেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হয়। একজন ওসির নেতৃত্ব একটি থানার কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। সেক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে জনবান্ধব ও কার্যকর পুলিশিংয়ের উদাহরণ স্থাপন করা কর্মকর্তাদের স্বীকৃতি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান অপরাধ প্রবণতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করে এবং দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহ জোগায়। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে যারা নিরলসভাবে কাজ করছেন, তাঁদের সাফল্য তুলে ধরলে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হন।

বড়লেখা উপজেলার সাধারণ মানুষ এখন প্রত্যাশা করছেন, এই অর্জনের ধারাবাহিকতায় এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমে পুলিশ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কারণ নিরাপদ সমাজ গঠনে পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতাই সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

নবীগঞ্জে হাইব্রিড ধান চাষে ব্র্যাক সিডের কর্মশালা

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হাওরের পানিতে ডুবছে সোনালি ধান, দুশ্চিন্তায় কৃষক

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বজ্রপাত মোকাবিলায় ছাতকে সচেতনতায় লাফার্জ হোলসিম

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এপ্রিলে সিলেট সড়কে ঝরেছে ১৫ প্রাণ

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেট বন্ধে ক্ষুব্ধ সিলেটের ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

নবীগঞ্জে হাইব্রিড ধান চাষে ব্র্যাক সিডের কর্মশালা

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হাওরের পানিতে ডুবছে সোনালি ধান, দুশ্চিন্তায় কৃষক

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বজ্রপাত মোকাবিলায় ছাতকে সচেতনতায় লাফার্জ হোলসিম

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এপ্রিলে সিলেট সড়কে ঝরেছে ১৫ প্রাণ

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

পাথর-বালু উত্তোলন নিয়ে আবারও আলোচনায় সিলেট

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হাসপাতালে যাওয়ার পথে ঝরে গেল এক পরিবারের চার প্রাণ

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শাহ আলমকে ঘিরে সিলেটে শিল্পের বর্ণিল আয়োজন

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ