প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিকে আরও লাভজনক করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ কৃষি কর্মশালা। সোমবার (৪ মে) সকালে উপজেলা কৃষি অফিসের হলরুমে ব্র্যাক সিড ও অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিতে এই আয়োজনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ রিজিয়নের ব্র্যাক সিডের আরএসএম আনিছুর রহমান। অনুষ্ঠানে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন একই রিজিয়নের টিএসও মো. কামরুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ফজলুল হক মনি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সম্পাদক সাগর আহমেদ, ব্র্যাক সিডের পিডিএস রুহুল আমিনসহ স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শেখ ফজলুল হক মনি কৃষকদের উদ্দেশে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষিতে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ অত্যন্ত জরুরি। বীজ আলু, হাইব্রিড ধান, ভুট্টা এবং বিভিন্ন সবজি বীজের উন্নত জাত ব্যবহার করে কীভাবে অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে তিনি বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই দমনে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
ব্র্যাক সিডের আরএসএম আনিছুর রহমান বলেন, কৃষিকে লাভজনক করতে হলে শুধু পরিশ্রম নয়, প্রয়োজন সঠিক জ্ঞান ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার। তিনি জানান, মানসম্মত বীজ ব্যবহার করলে উৎপাদন কয়েকগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাই ভবিষ্যতের কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে পারে।
কর্মশালায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। প্রায় ৫২ জন কৃষক এতে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আমন মৌসুমের জন্য উন্নত জাতের হাইব্রিড ব্র্যাক ধান বীজ-১০। এই বীজ ব্যবহার করে অধিক ফলন পাওয়া যাবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু ফলন ও লাভ প্রত্যাশিত মাত্রায় না পাওয়ায় তারা অনেক সময় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এমন প্রশিক্ষণ তাদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে বলে তারা মনে করেন। বিশেষ করে হাইব্রিড বীজ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা পাওয়ায় তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলনের আশা করছেন।
ব্র্যাক সিডের কর্মকর্তারা জানান, দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে আধুনিক বীজ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। জলবায়ু পরিবর্তন, জমির উর্বরতা হ্রাস এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের নতুন পদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। এ কারণে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ে সহায়তা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, এ ধরনের কর্মশালা কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষকরা যদি সঠিক সময়ে সঠিক প্রযুক্তি গ্রহণ করেন, তাহলে ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের কৃষি খাত এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ঐতিহ্যগত চাষাবাদের পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। বিশেষ করে হাইব্রিড বীজ ব্যবহারের ফলে একই জমিতে আগের তুলনায় অনেক বেশি উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষণ, নিয়মিত তদারকি এবং কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি।
আয়োজক সংস্থা আশা প্রকাশ করেছে, নবীগঞ্জের মতো এলাকায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে কৃষকেরা আরও বেশি উপকৃত হবেন। এর মাধ্যমে শুধু ব্যক্তিগত কৃষকের আয় বাড়বে না, বরং দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কর্মশালাটি শেষ হয় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বীজ বিতরণ এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে। কৃষকরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা পেলে তারা আধুনিক কৃষিতে নিজেদের আরও দক্ষ করে তুলতে পারবেন।

