এপ্রিলে সিলেট সড়কে ঝরেছে ১৫ প্রাণ

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনা যেন প্রতিনিয়ত মানুষের জীবনে আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে উঠেছে। তবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে প্রাণহানির পরিসংখ্যানে। গত দুই বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো মাসে তুলনামূলক কম সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ১৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন।

সোমবার (৪ মে) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর আগের মাস মার্চে সিলেট বিভাগে ২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৩২ জন এবং আহত হন ৪৪ জন। সেই তুলনায় এপ্রিল মাসে প্রাণহানি অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। যদিও সড়কে একটি মৃত্যুও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এপ্রিল মাসে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট জেলায়। জেলার বিভিন্ন সড়কে ৯টি দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং ৫৩ জন আহত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভাগীয় শহর হওয়ায় সিলেটে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক বেশি। আন্তঃজেলা ও অভ্যন্তরীণ সড়কে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যান চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় দুর্ঘটনার সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। সুনামগঞ্জে ৩টি দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন। হবিগঞ্জে ৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩ জন এবং আহত হয়েছেন ১ জন। মৌলভীবাজার জেলায় ৪টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন। যদিও সংখ্যার দিক থেকে এপ্রিলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল, তারপরও প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে পরিবার হারানোর বেদনা, দীর্ঘশ্বাস এবং অনিশ্চয়তার গল্প।

নিসচার প্রতিবেদনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হলো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এপ্রিল মাসে নিহতদের মধ্যে ৫ জনই ছিলেন মোটরসাইকেল চালক বা আরোহী। সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মোটরসাইকেলের অনিয়ন্ত্রিত গতি, হেলমেট ব্যবহার না করা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা এখন বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি দুর্ঘটনায় সিএনজি ও টমটম চালক বা আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। তিনটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালক এবং পাঁচটি পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন পথচারীরা। পথচারীদের মৃত্যুর হারও বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলছে সচেতন মহলকে। কারণ সড়ক পারাপারে নিরাপদ অবকাঠামোর অভাব, ফুটওভার ব্রিজের স্বল্পতা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে এর জন্য দায়ী করছেন অনেকে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। এ ধরনের ৬টি দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষের একটি ঘটনায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগেও একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যদিও সেখানে কোনো প্রাণহানি হয়নি।

নিহতদের বয়স ও পরিচয়ের দিক থেকেও প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। নিহত ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ২ জন শিশু। অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনা শুধু কর্মজীবী বা চালকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; নারী ও শিশুরাও এর শিকার হচ্ছেন নিয়মিত। প্রতিটি মৃত্যু একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

নিসচা সিলেট বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিশু জানান, স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, নিসচার শাখা সংগঠনের তথ্য এবং বিভিন্ন অনপ্রকাশিত ঘটনার ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাণহানি কিছুটা কমলেও এটিকে আত্মতুষ্টির কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনো অনেক কাজ বাকি।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনা কমানোর জন্য শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, তার কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব, অতিরিক্ত গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থাপনা দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ট্রাফিক সংকেত অমান্য করা এবং ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর প্রবণতাও বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সচেতন মহলের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রশাসন, পরিবহন মালিক, চালক ও সাধারণ জনগণ—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা, গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত ট্রাফিক মনিটরিং জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সিলেট বিভাগের সড়কগুলোতে সম্প্রতি যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সেই তুলনায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে আঞ্চলিক মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। অনেক সড়কে পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড, গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কিংবা স্ট্রিটলাইট না থাকাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

যদিও এপ্রিল মাসের পরিসংখ্যান কিছুটা আশাব্যঞ্জক, তারপরও প্রতিটি প্রাণহানি সমাজের জন্য বড় ক্ষতি। কারণ একটি দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না, বরং একটি পরিবারকে অনিশ্চয়তা ও শোকের অন্ধকারে ঠেলে দেয়। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

নবীগঞ্জে হাইব্রিড ধান চাষে ব্র্যাক সিডের কর্মশালা

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হাওরের পানিতে ডুবছে সোনালি ধান, দুশ্চিন্তায় কৃষক

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মৌলভীবাজারের শ্রেষ্ঠ ওসি বড়লেখার মনিরুজ্জামান

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বজ্রপাত মোকাবিলায় ছাতকে সচেতনতায় লাফার্জ হোলসিম

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেট বন্ধে ক্ষুব্ধ সিলেটের ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

নবীগঞ্জে হাইব্রিড ধান চাষে ব্র্যাক সিডের কর্মশালা

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হাওরের পানিতে ডুবছে সোনালি ধান, দুশ্চিন্তায় কৃষক

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মৌলভীবাজারের শ্রেষ্ঠ ওসি বড়লেখার মনিরুজ্জামান

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বজ্রপাত মোকাবিলায় ছাতকে সচেতনতায় লাফার্জ হোলসিম

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

পাথর-বালু উত্তোলন নিয়ে আবারও আলোচনায় সিলেট

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হাসপাতালে যাওয়ার পথে ঝরে গেল এক পরিবারের চার প্রাণ

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শাহ আলমকে ঘিরে সিলেটে শিল্পের বর্ণিল আয়োজন

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ