প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় পুকুরে ডুবে আপন চাচাতো দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বৈঠাখাই গ্রামে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত দুই শিশু হলো বৈঠাখাই গ্রামের রমজান আলীর মেয়ে রুমা আক্তার (৭) এবং উকিল আলীর মেয়ে পাপিয়া আক্তার (৪)। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো বোন ছিল। অল্প বয়সের এই দুই শিশুর মৃত্যুতে পরিবারসহ স্থানীয়রা গভীরভাবে শোকাহত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে দুই শিশু বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলা করছিল। খেলার এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তারা বাড়ির পাশের পুকুরের দিকে চলে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, খেলতে খেলতে অসাবধানতাবশত তারা পুকুরে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের লোকজন পুকুরে তল্লাশি চালান। তখনই রুমা আক্তারকে পানির নিচে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত পাপিয়া আক্তারকে উদ্ধার করে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একসঙ্গে খেলা করতে যাওয়া দুই শিশুর এমন করুণ পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামাঞ্চলে পুকুর ও জলাশয়ের পাশেই অনেক বাড়ি হওয়ায় ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রায়ই ঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক সময় অভিভাবকদের সামান্য অসতর্কতার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটে যায়, যা সারাজীবনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”
এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল বারবার সতর্কতা জারি করলেও বাস্তব চিত্রে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বাড়ির আশেপাশে খোলা পুকুর, ডোবা ও খাল-নদীর কারণে শিশুদের জন্য ঝুঁকি বেশি থাকে।
শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন। শিশুদের খেলাধুলার সময় অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো, পুকুরের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ঘটনার পর নিহত দুই শিশুর পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্বজনরা জানান, সকালে হাসিখুশিভাবে খেলতে যাওয়া দুই শিশুর নিথর দেহ ফিরে আসবে—এটা কেউই কল্পনা করতে পারেননি। তাদের এই অকাল মৃত্যুতে পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোক প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সামান্য অসতর্কতাও শিশুদের জীবনে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। অভিভাবকদের আরও সচেতনতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

