প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গালিব চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে এক আবেগঘন সংবর্ধনা। স্থানীয় সাংবাদিকদের সংগঠন বড়লেখা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রশাসন, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে তৈরি হয় এক আন্তরিক ও শ্রদ্ধাপূর্ণ পরিবেশ।
বুধবার বিকেল ৪টায় বড়লেখা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাব সভাপতি আনোরুল ইসলাম এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আয়োজনে উপস্থিত সবাই বিদায়ী ইউএনওর কর্মজীবন, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং উন্নয়নমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিদায়ী ইউএনও গালিব চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম এবং ওসি (তদন্ত) ওবায়দুল হক। স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. খলিলুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোপাল দত্ত বাবলুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে গালিব চৌধুরীর দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বড়লেখা উপজেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি এসেছে এবং উন্নয়নমূলক কাজে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, একজন ইউএনও হিসেবে গালিব চৌধুরী শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই পালন করেননি, বরং সাধারণ মানুষের সমস্যার প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করেছেন। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকি এবং জনসেবামূলক উদ্যোগে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা তার সততা, কর্মনিষ্ঠা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করে বলেন, এমন একজন কর্মকর্তার বদলি বড়লেখার জন্য একটি শূন্যতা তৈরি করবে। তবে একই সঙ্গে তারা তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শুভকামনাও জানান।
বিদায়ী বক্তব্যে ইউএনও গালিব চৌধুরী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বড়লেখায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি যে আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে, তবে বড়লেখার মানুষ সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা তার কাজকে সহজ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বড়লেখা উপজেলা ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে এবং এ অঞ্চলের মানুষ আরও সমৃদ্ধ জীবনযাপন করবে।
অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক এবং উপহার প্রদান করা হয়। উপস্থিত সবাই তার সঙ্গে ছবি তোলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক আবেগঘন পরিবেশ, যেখানে বিদায়ের বেদনা ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি একসঙ্গে প্রকাশ পায়।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও কিছু কর্মকর্তা তাদের কর্মদক্ষতা ও মানবিক আচরণের কারণে মানুষের মনে বিশেষ জায়গা করে নেন। গালিব চৌধুরী ছিলেন তেমনই একজন কর্মকর্তা, যিনি তার দায়িত্বকালীন সময়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
বড়লেখা প্রেস ক্লাবের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে জনসেবা আরও কার্যকর করা সম্ভব। এই ধরনের বিদায়ী সংবর্ধনা শুধু একজন কর্মকর্তার প্রতি সম্মান নয়, বরং দায়িত্বশীল প্রশাসনিক চর্চার স্বীকৃতিও বটে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সবাই গালিব চৌধুরীর সুস্বাস্থ্য, সফলতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানান। বিদায়ের এই মুহূর্তটি বড়লেখা উপজেলায় একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।
সব মিলিয়ে, বড়লেখার এই বিদায়ী সংবর্ধনা ছিল একদিকে আবেগঘন বিদায়, অন্যদিকে একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।


