প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৩৫ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব-৯ সূত্রে জানা যায়, এর আগে শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে র্যাব-৯ এর সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের জগদীশপুর এলাকায় অভিযান চালায়। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক পাচার ও বিক্রির একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানানো হয়।
অভিযান চলাকালে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি তার কাছে মাদকদ্রব্য থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর তার দেখানো স্থানে তল্লাশি চালিয়ে নীল রঙের পলিথিনে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় মোট ৩৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. জনি, বয়স ২৪ বছর। তিনি মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর চা বাগান এলাকার বাসিন্দা এবং আব্দুল বাছেরের ছেলে বলে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে তার চলাফেরা এবং মাদক সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল বলে র্যাব সূত্রে জানা যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেন যে, তিনি হবিগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে তা বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে মাদক পরিবহন ও বিক্রির কাজে জড়িত ছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
র্যাব-৯ জানায়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় মাধবপুর ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার হওয়ায় এসব অপরাধ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়, মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এই সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, স্কুল ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন।
অন্যদিকে র্যাব-৯ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং মাদক চক্রের মূল হোতাদের শনাক্তে ধারাবাহিক অভিযান চলবে। তারা আরও জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই মাদক দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ বা ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকের বড় চালান ধরা পড়া প্রমাণ করে যে চোরাচালান চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে। তবে নিয়মিত অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং স্থানীয় তথ্য ব্যবস্থার সমন্বয় বাড়ানো গেলে এই ধরনের অপরাধ আরও কমিয়ে আনা সম্ভব।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং পুরো চক্রের নেটওয়ার্ক কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে মাধবপুর ও আশপাশের এলাকায় এই ঘটনার পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক ব্যবসায়ীরা আর এলাকায় তৎপর হতে পারবে না।
সার্বিকভাবে, ৩৫ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীর গ্রেফতারের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তা ও কঠোর অবস্থান এ ধরনের অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

