প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধীন একাধিক সীমান্ত ফাঁড়ির সদস্যরা এসব অভিযান পরিচালনা করেন। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে ভারতীয় গরু, মদ, এনার্জি ড্রিংকস, টমেটো ও বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, কম্বল, প্রসাধনসামগ্রী, চা-পাতা, চকলেট, কিসমিস ও আতশবাজি রয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়া বন্ধ, মাদক পাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে এসব অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সোনালীচেলা, প্রতাপপুর, তামাবিল, সোনারহাট, সংগ্রাম, দমদমিয়া ও বিছনাকান্দি সীমান্ত চৌকি (বিওপি) সংশ্লিষ্ট এলাকায় তৎপরতা পরিচালনা করেন বিজিবি সদস্যরা।
সাত সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান
সিলেটের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান বিজিবির নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। শুক্রবারের অভিযানে সাতটি সীমান্ত চৌকির আওতাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৮৮০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
জব্দ করা পণ্যের তালিকায় রয়েছে ভারতীয় গরু, মদ, এনার্জি ড্রিংকস, টমেটো, ফলমূল, কম্বল, কসমেটিকস, চা-পাতা, চকলেট, কিসমিস ও আতশবাজি। পণ্যগুলোর ধরন থেকে বোঝা যায়, সীমান্ত দিয়ে শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় বা খাদ্যপণ্য নয়, পানীয়, প্রসাধনসামগ্রী ও অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্যও অবৈধভাবে পরিবহনের চেষ্টা করা হয় বলে বিজিবির অভিযানে উঠে এসেছে।
তবে কোন পণ্য কত পরিমাণে জব্দ হয়েছে, সেগুলো কোন সীমান্ত দিয়ে আনা হচ্ছিল এবং অভিযানের সময় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে জব্দের সামগ্রিক মূল্য ও পণ্যের নামের বাইরে নির্দিষ্ট পরিমাণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদক পাচার প্রতিরোধে নজরদারি
সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চোরাচালান প্রতিরোধ বিজিবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশের পাশাপাশি মাদক ও অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের ঝুঁকিও রয়েছে। এ কারণে সীমান্ত চৌকির টহল, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সন্দেহজনক চলাচলের ওপর নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি।
সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক জানান, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, চোরাচালান বন্ধ করা এবং মাদক পাচার রোধে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা পণ্যের বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
চোরাচালানের প্রভাব শুধু রাজস্ব ক্ষতিতে সীমাবদ্ধ নয়
সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়া দেশের বৈধ বাণিজ্যব্যবস্থা ও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বৈধ আমদানি প্রক্রিয়ার বাইরে পণ্য বাজারে প্রবেশ করলে শুল্ক ও কর আদায়ের সুযোগ কমে যায়। একই সঙ্গে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী আমদানিকারক ও বিক্রেতারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারেন।
চোরাচালানের সঙ্গে মাদক বা নিষিদ্ধ পণ্যের সংশ্লিষ্টতা থাকলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশ জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে সীমান্তে নজরদারির পাশাপাশি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, পরিবহনব্যবস্থা এবং পণ্যের সরবরাহপথ শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শুক্রবারের অভিযানে জব্দ হওয়া সব পণ্য একই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। পণ্যগুলোর মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, ভোগ্যপণ্য ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সামগ্রীর পাশাপাশি মদ ও আতশবাজিও রয়েছে। প্রতিটি পণ্যের প্রকৃতি, আমদানি-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং জব্দের আইনগত ভিত্তি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া
বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা পণ্যের বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সাধারণত এ ধরনের অভিযানে উদ্ধার করা মালামালের তালিকা প্রস্তুত, মূল্য নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে শুক্রবারের অভিযানে ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় পণ্যগুলো নিষ্পত্তি করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। তাই জব্দ হওয়া পণ্যের সঙ্গে কারা জড়িত, সেগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল কিংবা কোথায় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বন্ধে শুধু পণ্য জব্দ করাই যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং বৈধ বাণিজ্যের সুযোগ নিশ্চিত করা এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
শুক্রবারের অভিযানে ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৮৮০ টাকার পণ্য জব্দের ঘটনা সিলেট সীমান্তে বিজিবির চলমান নজরদারির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এখন জব্দ করা পণ্যের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও বৈধ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে নিয়মিত নজরদারি এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের ওপর।

