সিলেট সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে আনসার মোতায়েন

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন

দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নতুন পদক্ষেপ হিসেবে সিলেট সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সঙ্গে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উদ্যোগ সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-পরিচালক (গণসংযোগ) মো. আশিকউজ্জামান এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি একটি সমন্বিত উদ্যোগ, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত জেলা হিসেবে সিলেট দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ও নজরদারির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যের সঙ্গে বিস্তৃত সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া এই অঞ্চলে বৈধ সীমান্ত বাণিজ্যের পাশাপাশি মাঝে মাঝে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধের অভিযোগও সামনে আসে। ফলে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

আনসার ও ভিডিপি সূত্রে জানা গেছে, বিজিবির সঙ্গে ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় সীমান্ত এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সমঝোতার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই বর্তমানে সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়বে এবং তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত জনবল যুক্ত হওয়ায় নজরদারির পরিধি বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে দুর্গম ও জনবিরল সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এটি সহায়ক হবে।

আনসার ও ভিডিপি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত সদস্যরাই নন, প্রয়োজনে অতিরিক্ত জনবল সরবরাহের জন্য আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোনো বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কিংবা নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেলে দ্রুত অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা সম্ভব হবে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকেই। সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের মতে, নিরাপত্তা জোরদার হলে চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কমে আসবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের আরও নিরাপদ মনে করবেন। সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী অনেকের ধারণা, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়লে অপরাধীরা সহজে তৎপরতা চালাতে পারবে না।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে সোমবার দুপুরে ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপির মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে উভয় বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় শুধু একটি বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশ্বের অনেক দেশেই সীমান্ত নিরাপত্তায় সহায়ক বাহিনী ও স্থানীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে সম্পৃক্ত করার নজির রয়েছে। বাংলাদেশেও বিজিবির পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ততা সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও কার্যকর করতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত এলাকায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগের সঙ্গে অতিরিক্ত জনবল যুক্ত হওয়ায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আনসার ও ভিডিপি বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিজিবির চলমান কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা রাখাই তাদের এই সম্পৃক্ততার মূল লক্ষ্য। সীমান্ত এলাকায় টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি একটি দেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বশীল ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মোতায়েন সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকাতেও আরও বিস্তৃত আকারে বাস্তবায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

আজমিরীগঞ্জে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়ার ইমন

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বড়লেখার জোড়া হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চায়ের দোকানের তর্কে প্রাণ গেল নাসিমের

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে বালুর নিচে ১১ লাখ টাকার জিরা, যুবক গ্রেফতার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হাম আতঙ্ক: আরও এক শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

আজমিরীগঞ্জে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়ার ইমন

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বড়লেখার জোড়া হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চায়ের দোকানের তর্কে প্রাণ গেল নাসিমের

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে বালুর নিচে ১১ লাখ টাকার জিরা, যুবক গ্রেফতার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হাম আতঙ্ক: আরও এক শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে শাশুড়ি-স্ত্রীকে কুপিয়ে কারাগারে জামাই

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে আবুল হত্যা মামলায় দুই আসামি গ্রেফতার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ