প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের কারণে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নির্ধারিত সিলেট সফর স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সফরটি স্থগিতের ঘোষণা আসে। এর ফলে সফর উপলক্ষে সিলেটে আয়োজিত সব সরকারি কর্মসূচিও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে সফরের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (২২ জুন) রাতে বাণিজ্যমন্ত্রীর মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয়তার কারণে মঙ্গলবারের নির্ধারিত সিলেট সফর আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে সফর বাতিল করা হয়নি; পরবর্তী সময়ে নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে রোববার রাতে মন্ত্রীর একান্ত সচিব গণমাধ্যমকে তার সিলেট সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার সিলেটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠান ও বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল মন্ত্রীর। প্রশাসনিক প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কারণে নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
মন্ত্রীর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল সিলেট সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিতব্য একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা ওই বৈঠকে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন মাজারের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উপস্থিতিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ মাজারগুলোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ, ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছিল। বিশেষ করে মাজার এলাকার প্রশাসনিক কার্যক্রম, দর্শনার্থীদের সুবিধা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার সম্ভাবনা ছিল।
সফরসূচিতে পরিবেশ ও কৃষি উন্নয়ন-সংক্রান্ত একাধিক কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে ছিল ২০ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। পাশাপাশি সিলেট সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধনেরও কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা ছিল।
এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ারও কথা ছিল মন্ত্রীর। ওই বৈঠকে সিলেট অঞ্চলের চলমান ও প্রস্তাবিত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সফর স্থগিত হওয়ার ফলে নির্ধারিত প্রতিটি কর্মসূচিই আপাতত স্থগিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সফরের নতুন তারিখ নির্ধারণ হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে পুনরায় অবহিত করা হবে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে।
তবে সফর স্থগিতের কারণ হিসেবে শুধুমাত্র “রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ” উল্লেখ করা হলেও, এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বাণিজ্যমন্ত্রীর মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সফর পুনর্নির্ধারণের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মসূচিতে রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন, জাতীয় অগ্রাধিকার কিংবা জরুরি প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত সফর ও কর্মসূচি স্থগিত বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়ে থাকে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা যায়।
এদিকে সফর উপলক্ষে যেসব সরকারি দপ্তর ও প্রশাসনিক সংস্থা প্রস্তুতি নিয়েছিল, তারা নতুন নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন তারিখ ঘোষণা করা হলে একই কর্মসূচিগুলো পুনরায় আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে মাজার ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কৃষি প্রযুক্তি মেলা এবং উন্নয়নবিষয়ক বৈঠকগুলো সরকারের চলমান কার্যক্রমের অংশ হওয়ায় সেগুলো পরবর্তীতে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।
সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, ধর্মীয় পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার আলোকে বাণিজ্যমন্ত্রীর এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। যদিও নির্ধারিত দিনে সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, তবুও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সফর অনুষ্ঠিত হলে নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর মন্ত্রীর নতুন সফরসূচির অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারিভাবে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হলে সে অনুযায়ী পুনরায় সব কর্মসূচি আয়োজন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।


