প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট মহানগরীর একটি সরকারি হাসপাতালের আউটডোরের বারান্দা থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে এয়ারপোর্ট থানাধীন বক্ষব্যাধি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে হাসপাতালের আউটডোরের সামনের বারান্দায় এক নারীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন হাসপাতালের কর্মচারী ও সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল তিনি হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে কাছে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ উদ্ধার করে।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার কাছে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন বা পরিচয় বহনকারী অন্য কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্তের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশপাশের থানাগুলোতে নিখোঁজ সংক্রান্ত কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ওই নারী কীভাবে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসেছিলেন কিংবা তার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল কি না, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।
হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানান, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও বহির্বিভাগে রোগী ও স্বজনদের উপস্থিতি ছিল। বিকেলের দিকে হঠাৎ এক নারীকে বারান্দায় নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে অনেকেই এগিয়ে আসেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য হাসপাতাল এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মরদেহে দৃশ্যমান কোনো গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাহ্যিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের ফলাফলই মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্বাভাবিক মৃত্যু, অসুস্থতাজনিত মৃত্যু কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকদের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, স্থানীয় তথ্য এবং প্রয়োজন হলে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তাও নেওয়া হতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি নিখোঁজ স্বজনের সন্ধান করে থাকেন, তবে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করারও আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য রোগী ও স্বজনের যাতায়াত থাকে। অনেক সময় অসুস্থ, ভবঘুরে কিংবা পরিচয়বিহীন মানুষও হাসপাতাল চত্বরে আশ্রয় নেন। এমন পরিস্থিতিতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিষয়ে দ্রুত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


