প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
শ্রীমঙ্গল শহরে উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই সাংবাদিক বা প্রশাসনের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না। তার এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) শ্রীমঙ্গলের পুরানবাজার এলাকায় সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) এর জন্য ট্রেনিং সেন্টার ও ডরমেটরি ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় ১৪ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি এলাকার সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিক ও প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন এবং তাদের মাধ্যমে জনগণ প্রকৃত তথ্য জানতে পারে। তাই তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো উচিত নয়, যা সাংবাদিক বা প্রশাসনের জন্য হয়রানির কারণ হতে পারে। বরং সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে। তার মতে, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তবে তিনি সাংবাদিকদের প্রতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শোনা কথার ভিত্তিতে বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর করে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এহসান বিন মুজাহিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার বিষয়টি তুলে ধরা হলে এমপি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে পর্যালোচনায় রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলের এক যুবদল নেতা এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, উদ্বোধন হওয়া প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই প্রকল্পের আওতায় একটি পাঁচতলা এবং একটি চারতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এটি বাস্তবায়ন করবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণকাজ সম্পন্ন করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এতিম ও অসহায় শিশুদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ও আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক হবে।
এছাড়া শ্রীমঙ্গল শহরের বাইপাস সড়ক প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন এমপি মুজিব। তিনি জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৬০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, যার বেশিরভাগই কৃষিজমি হওয়ায় কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকার বাজেটও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। তবে এসব বাধা সত্ত্বেও প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহিবুল্লাহ আকন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক হাবিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. শামিম আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় পর্যায়ে এই বক্তব্যকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে একজন সংসদ সদস্যের এমন অবস্থান গণমাধ্যমের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার গুরুত্বও এতে উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে, শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্বশীলতা এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগ ও বক্তব্য বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


