প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের জন্য সামনে আসছে ভোগান্তিপূর্ণ তিন দিন। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ শেরপুর সেতু জরুরি মেরামত কাজের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। ফলে এই সময়ের মধ্যে সিলেট থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকাগামী থেকে সিলেটগামী সকল যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে এবং যাত্রীদের আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কুশিয়ারা নদীর ওপর নির্মিত শেরপুর সেতুটি সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগের একটি প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন এই সেতু দিয়ে চলাচল করে, যার মধ্যে রয়েছে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। সেতুটির ওপর নির্ভরশীলতা এতটাই বেশি যে, সামান্য বিঘ্নও পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
জেলা প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকা-সিলেট জাতীয় মহাসড়কের ১৮৬তম কিলোমিটারে অবস্থিত এই সেতুর ডেকস্ল্যাবের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে রবিবার ২৬ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত টানা এই সংস্কার কাজ চলবে।
এই সময়ের মধ্যে সেতুতে যান চলাচল আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এক লেনে সীমিতভাবে যান চলাচল করতে দেওয়া হবে। এরপর শুক্রবার রাত ১১টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সেতুর ওপর দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। এই সময়টিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধরা হচ্ছে, কারণ তখন মেরামতের প্রধান কাজ সম্পন্ন করা হবে।
পরবর্তীতে শনিবার সকাল ৯টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আবারও এক লেনে সীমিতভাবে যান চলাচলের সুযোগ রাখা হবে। কাজ শেষে রবিবার সকাল ৮টার পর সেতুটি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এই পরিস্থিতিতে যাত্রীসাধারণ ও যানবাহন চালকদের জন্য বিকল্প সড়ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সিলেট-ঢাকা রুটে চলাচলকারী যানবাহনকে শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে বাহুবল, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে সিলেটে প্রবেশ বা বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে শেরপুর থেকে সিলেটমুখী যানবাহনকে মৌলভীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ রুট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জগামী যানবাহনের জন্য নবীগঞ্জ, রানীগঞ্জ ও জগন্নাথপুর হয়ে বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানিয়েছেন, সেতুটির বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত মেরামত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কাজ করা হচ্ছে। সাময়িক অসুবিধা হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি যাত্রীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে।” তিনি আরও বলেন, প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, বিকল্প সড়কগুলো তুলনামূলকভাবে সরু এবং কিছু অংশে যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে যাত্রীদের যাত্রাপথে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে সপ্তাহান্তে যাত্রীচাপ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যাত্রীদের অনেকেই ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নিয়মিত এই পথে যাতায়াতকারী এক যাত্রী জানান, “এই সেতু বন্ধ থাকলে আমাদের অনেক ঘুরপথে যেতে হবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে।” অন্যদিকে পরিবহন চালকরাও বলছেন, বিকল্প রুটে রাস্তার অবস্থা সব জায়গায় ভালো নয়, যা যাত্রাকে আরও ধীরগতির করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত সেতুগুলোর ক্ষেত্রে সময়মতো সংস্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে শেরপুর সেতুর এই মেরামত কাজকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের অপ্রয়োজনে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যেসব যাত্রা স্থগিত করা সম্ভব। জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে যাত্রা শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে শেরপুর সেতুর এই সাময়িক বন্ধ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সময়টুকু পার করা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে। যাত্রীদের সহযোগিতা এবং সচেতনতা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


