প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
চট্টগ্রামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত সহিংস ঘটনার প্রতিবাদে সিলেটে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জেলা ও মহানগর শাখা। শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা ও দখল রাজনীতির অভিযোগ তুলে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা হামলার বিচার দাবি করেন এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের পুরো পথজুড়ে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর ছিল অংশগ্রহণকারীরা। তাদের কণ্ঠে উঠে আসে শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি, সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং দোষীদের বিচারের আহ্বান। সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে মিছিলটি নগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে এক ভিন্ন দৃশ্যের জন্ম দেয়, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও ছাত্রসমাজের আবেগ একসঙ্গে মিশে যায়।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুবের আহমদ। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল ইসলাম। সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী আহসান। তিনি তার বক্তব্যে চট্টগ্রামের ঘটনাকে “ন্যাক্কারজনক” উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষাঙ্গনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিরোধী মতের ছাত্রদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং সতর্ক করে দেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দও একই সুরে বক্তব্য দেন। তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জ্ঞানচর্চার জায়গা হলেও সেখানে সহিংসতা ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা পরিস্থিতিকে ক্রমেই জটিল করে তুলছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক শর্ত বলে তারা উল্লেখ করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ লস্কর মোনিম, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আজহার আলী অনিক, মোঃ আব্দুল্লাহ এবং খায়রুল ইসলাম দোয়েল। এছাড়া মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ মিজানুর রহমান, আফজল হোসেন, জহিরুল ইসলাম আলালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি কর্মসূচিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে এবং দলীয় সংহতির একটি দৃশ্যমান প্রকাশ ঘটায়।
সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তারা দাবি করেন, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। তাই প্রশাসনের প্রতি তারা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশও এই ধরনের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলছেন, শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা বন্ধে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা কখনোই সহিংসতায় রূপ নেওয়া উচিত নয়। বরং আলোচনার মাধ্যমে মতবিনিময় ও সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, বরং ছাত্রসংগঠনগুলোরও একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। তারা যদি দায়িত্বশীল আচরণ করে এবং সহনশীলতার চর্চা করে, তাহলে সহিংসতার প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।
সিলেটে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচি মূলত একটি প্রতীকী প্রতিবাদ হলেও এর মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ছাত্রসমাজের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অংশগ্রহণকারীরা একদিকে যেমন নির্দিষ্ট ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন, অন্যদিকে সার্বিকভাবে একটি নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবি তুলেছেন।
সব মিলিয়ে, চট্টগ্রামের ঘটনার প্রতিবাদে সিলেটের এই বিক্ষোভ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ও সহাবস্থানের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এবং কার্যকরভাবে এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


